ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার মতপার্থক্য থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও ট্রাম্পের সাবেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী টাকার কার্লসনের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার সময় তিনি এ ইঙ্গিত দেন।
হোয়াইট হাউসের সাবেক মুখপাত্র শন স্পাইসারের সঞ্চালনায় একটি রাজনৈতিক টক শোতে অংশ নেন ভ্যান্স। সেখানে কার্লসনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিমত থাকলেও সেই মতপার্থক্য বজায় রাখা সম্ভব। এ প্রসঙ্গে ভ্যান্স বলেন, ‘এমনকি একটি বিষয়ে তার সঙ্গে আপনার মতপার্থক্য থাকলেও সেই দ্বিমত থাকতে পারে। আর আমার মনে হয়, ওই বিষয়ে আমারও মতপার্থক্য ছিল।’
আলোচনায় টাকার কার্লসনের অবস্থানও উঠে আসে। রক্ষণশীল রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য পরিচিত কার্লসন ইরান যুদ্ধ নিয়ে ‘খুব, খুব ক্ষুব্ধ’ ছিলেন বলে জানান ভ্যান্স। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে কার্লসনের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিসরে এবং প্রকাশ্যেও তার কথা হয়েছে। কার্লসন যুদ্ধ নিয়ে কী ভাবেন, তা তিনি জানেন এবং তার অনুভূতিও বোঝেন বলে উল্লেখ করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।
ভ্যান্স বলেন, ‘টাকারকে আমি যা বলেছি, তা হলো, একটি বিষয় নিয়ে মতবিরোধের কারণে অন্য সবকিছু ছুড়ে ফেলা উচিত নয়।’ এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইরান যুদ্ধ নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও ট্রাম্পের অন্যান্য পদক্ষেপকে আলাদাভাবে বিবেচনা করার পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
এরপর ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ নীতির কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেন ভ্যান্স। তিনি সীমান্ত বন্ধ রাখা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে তার ভাষায় ‘অযৌক্তিক জাতিগত বৈষম্য’ বন্ধ করার প্রসঙ্গ তোলেন। এসব পদক্ষেপের স্বীকৃতি দেওয়া উচিত কি না, সেই প্রশ্নও রাখেন তিনি।
ভ্যান্সের বক্তব্য, ইরান যুদ্ধ নিয়ে কারও মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু সে কারণে ট্রাম্পের অন্যান্য কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি উপেক্ষা করা উচিত নয়। এভাবেই তিনি যুদ্ধ নিয়ে সম্ভাব্য দ্বিমতের ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি ট্রাম্পের অন্যান্য নীতির পক্ষে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। সূত্র: ডন