আপনাদের পরবর্তী বোকামির জন্য অপেক্ষা করছি: আবদোল্লাহি

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো ভুল পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠোর, ভিন্নধর্মী ও বিধ্বংসী জবাবের মুখে পড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ ও খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের পরবর্তী বোকামির সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছে ইরান।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দেওয়া এক বার্তায় ইরানের এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতাদের উদ্দেশে সরাসরি সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, ইরানের নেতৃত্ব, জনগণ, কর্মকর্তারা এবং শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর দৃঢ়তা ও সংকল্পকে বারবার পরীক্ষা করেছে প্রতিপক্ষ। কিন্তু যে পরীক্ষার ফলাফল আগেই জানা, সেই পরীক্ষা আবার করার অর্থ একই ভুলের পুনরাবৃত্তি।

আবদোল্লাহি বলেন, পরীক্ষিত বিষয়কে আবার পরীক্ষা করা ভুল। প্রতিপক্ষের পরবর্তী বোকামিপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্য ইরান মুহূর্ত গুনছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার এই বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে অতীতের সংঘাতগুলোর প্রসঙ্গ টেনে আবদোল্লাহি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সরকারকে উৎখাত, দেশটিকে বিভক্ত করা এবং ইরানকে ধ্বংস করার ঘোষিত লক্ষ্য নিয়ে প্রতিপক্ষ আগেও সংঘাতে জড়িয়েছিল। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের পরিবর্তে এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নিজেরাই পতন ও বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। বিপরীতে, শক্তিশালী ইরান দৃঢ়ভাবে নিজের অবস্থানে টিকে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এই সামরিক কমান্ডার।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন আবদোল্লাহি। তিনি বলেন, ট্রাম্প বুড়িয়ে গেছেন এবং এমনকি উঠে দাঁড়ানোর শক্তিটুকুও তার নেই। ইরানের এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে সরাসরি কটাক্ষ করা হয়েছে।

আবদোল্লাহি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ এবং অধিকৃত ভূখণ্ডের বাসিন্দারা, উভয় পক্ষই জানে যে প্রতিপক্ষের গুরুতর ও মৌলিক দুর্বলতা রয়েছে। তাই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো ভুল হিসাব বা ভুল পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তাদের এসব বাস্তবতা উপলব্ধি করা উচিত। এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার জবাব অতীতের যেকোনো প্রতিক্রিয়ার চেয়ে কঠোর ও স্বতন্ত্র হবে বলে আবারও সতর্ক করেন তিনি।

নিজের বক্তব্যে ইরানের নেতৃত্ব, জনগণ, সরকারি কর্মকর্তা এবং সশস্ত্র বাহিনীর মনোবল ও সংকল্পের প্রসঙ্গও পুনর্ব্যক্ত করেন আবদোল্লাহি। তার ভাষ্য, প্রতিপক্ষ বহুবার ইরানের দৃঢ়তা যাচাই করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু একই পরীক্ষা বারবার চালিয়ে যাওয়ার কোনো অর্থ নেই, কারণ এর পরিণতি সম্পর্কে তারা ইতিমধ্যেই অবগত।

সবশেষে ইরানের সম্ভাব্য পরবর্তী সামরিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে আরও কঠোর বার্তা দেন এই জ্যেষ্ঠ কমান্ডার। তিনি বলেন, পরবর্তী গর্জন হবে অনেক বেশি কাছাকাছি, অনেক বেশি বিধ্বংসী এবং তা প্রতিহত করা অসম্ভব হবে। তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আগ্রাসন চালানো হলে আরও শক্তিশালী পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতির কথা তুলে ধরা হয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আবদোল্লাহির এই হুঁশিয়ারি এল। এর আগে দুই পক্ষের সংঘাতের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধ এবং ইসলামি বিপ্লবের নেতার শাহাদাতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া পরবর্তী আগ্রাসনের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই সামরিক অভিযানগুলোতে ইরানের সরকার পরিবর্তন এবং দেশটিকে বিভক্ত করার স্লোগান সামনে রেখে প্রতিপক্ষ এগিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘সত্য প্রতিশ্রুতি’ নামের সামরিক অভিযানসহ বিভিন্ন পাল্টা পদক্ষেপের মাধ্যমে অধিকৃত ভূখণ্ডের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু এবং অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সামরিক নেতৃত্ব ধারাবাহিকভাবে তাদের পূর্ণ প্রস্তুতি, গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং যেকোনো নতুন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তমূলক জবাব দেওয়ার অঙ্গীকারের কথা জানিয়ে আসছে। দেশটির সামরিক নেতৃত্বের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো নতুন আক্রমণের জবাবে প্রতিপক্ষকে অনুতপ্ত করে দেওয়ার মতো আঘাত হানতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

আবদোল্লাহির সর্বশেষ বার্তায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানো হলে তা প্রতিপক্ষের জন্য আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে তেহরান মনে করছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংঘাতের কৌশলগত ভারসাম্য বদলে গেছে এবং ইরান এখনো দৃঢ় ও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।  সূত্র: প্রেস টিভি