সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় বিধ্বংসী হামলার হুঁশিয়ারি হুথিদের

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম

সৌদি আরব ইয়েমেনে হামলা আরও বাড়ালে দেশটির সরকারি সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাল্টা হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ সদস্য হিজাম আল-আসাদ বলেছেন, সৌদি আরব সংঘাতের মাত্রা বাড়ালে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী ও বিধ্বংসী জবাব দেবে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে দেওয়া বক্তব্যে আল-আসাদ অভিযোগ করেন, ইয়েমেনের আবাসিক এলাকায় সৌদি যুদ্ধবিমানের ধারাবাহিক হামলা এবং নারী-শিশুসহ বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার পেছনে রয়েছে সামরিক সাফল্য অর্জনের জন্য রিয়াদের প্রচেষ্টা। তার দাবি, দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযান, শক্তি সমাবেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থন নিয়েও সৌদি আরব ইয়েমেনে নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।

আল-আসাদ আরও বলেন, সীমান্তবর্তী ও দখলকৃত এলাকাগুলোতে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর আঘাতে সৌদি সমর্থিত বাহিনীগুলো পরাজয়ের মুখে পড়েছে। তার অভিযোগ, সেই পরাজয়ের প্রতিক্রিয়াতেই সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বেসামরিক মানুষকে হতাহত করছে।

হামলা বাড়লে জবাবও বাড়বে

আনসারুল্লাহর এই নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সৌদি আরব সংঘাত আরও বাড়ালে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর পাল্টা অভিযানের আওতায় দেশটির সরকারি সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও আসতে পারে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের হামলার মাত্রা বৃদ্ধির জবাব দেওয়া হবে আরও কঠোরভাবে।

আল-আসাদের অভিযোগ, সৌদি আরবের চলমান অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়ে ইয়েমেনের ওপর অবরোধ ও খাদ্যসংকট চাপিয়ে রাখা, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানো এবং বেসামরিক লোকজনের সমাবেশে হামলা চালানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি রোববার (১৮ অক্টোবর) ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সাদা প্রদেশে সৌদি বিমান হামলার কথা উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, একটি পরিবারের সদস্যরা দুপুরের খাবারের জন্য একত্রিত হওয়ার সময় ওই হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে পাঁচ শিশু ও দুই নারী ছিলেন।

আল-আসাদ প্রশ্ন তোলেন, নারী, শিশু ও অন্যান্য বেসামরিক মানুষের কী অপরাধ যে তাঁদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বোমা দিয়ে হামলা চালানো হচ্ছে? তিনি অভিযোগ করেন, সৌদি আরবের শাসকগোষ্ঠী বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার পাশাপাশি ইয়েমেনের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিতে আরও ভাড়াটে যোদ্ধা সংগ্রহ করছে।

সৌদির গভীরে সামরিক স্থাপনায় হামলার হুমকি

ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী সৌদি আরবের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা অভিযান আরও জোরদার করবে বলেও জানান আল-আসাদ। তার দাবি, এ ধরনের অভিযান সৌদি আরবকে ইয়েমেনে আরও হামলা চালানো থেকে বিরত রাখতে ভূমিকা রাখবে।

তিনি ইয়েমেনের প্রতিক্রিয়ার নীতিকে ‘হামলার জবাবে হামলা’ এবং ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার বক্তব্য, সৌদি আরবের হামলা ও অবরোধের জবাব একই ধরনের পাল্টা পদক্ষেপের মাধ্যমে দেওয়া হবে।

ইয়েমেনের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সৌদি হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতারও সমালোচনা করেন আনসারুল্লাহর এই নেতা। তার অভিযোগ, আর্থিক ও জ্বালানিসংক্রান্ত স্বার্থের কারণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এ বিষয়ে যথাযথ অবস্থান নিতে পারছে না।

আল-আসাদ বলেন, ইয়েমেনের জনগণ কখনো শত্রুদের কাছে মাথা নত করবে না। তার দাবি, সৌদি আরবের হামলা ইয়েমেনের জনগণের প্রতিরোধের সংকল্প ও দৃঢ়তা আরও বাড়িয়ে দেবে।
সৌদি অবরোধের জবাবে নৌ অবরোধের ঘোষণা

গত ২০ জুলাই সানাভিত্তিক সরকার ইয়েমেনের ওপর দীর্ঘদিনের অবরোধের জবাবে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেয়। ইয়েমেনের ওপর প্রায় ১২ বছর ধরে চলা অবরোধকে অন্যায্য ও নিপীড়নমূলক আখ্যা দিয়ে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে জানানো হয়। এরপর ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী লোহিত সাগরে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজ লক্ষ্য করে কয়েকটি সফল অভিযান চালানোর দাবি করেছে।

২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরব ও তার মিত্ররা ইয়েমেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে এবং দেশটির ওপর অবরোধ আরোপ করে। ওই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও কয়েকটি পশ্চিমা দেশ সামরিক, রাজনৈতিক ও সরবরাহগত সহায়তা দিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দীর্ঘ সংঘাতে ইয়েমেনের বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তবে সৌদি আরবের প্রধান লক্ষ্য নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে একটি সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, এখনো অর্জিত হয়নি বলে দাবি করেছে সানাভিত্তিক পক্ষটি। সূত্র: প্রেস টিভি

এএস
আরও পড়ুন