আজারবাইজানে হিজাব পরা মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধা, ইরান যা বললো

ধর্মীয় হিজাব পরার কারণে শিক্ষার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের মুখে পড়া আজারবাইজানের মেয়েদের ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির বিজ্ঞানমন্ত্রী হোসেইন সিমাই সারাফ। তিনি বলেছেন, উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী আজারবাইজানি ছাত্রীদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ইরান।

ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিও বার্তায় দেশটির বিজ্ঞানমন্ত্রী জানান, আজারবাইজান প্রজাতন্ত্রের যেসব মেয়ে ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান, তাঁদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দরজা খোলা রয়েছে।

সিমাই সারাফ বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিজ্ঞানমন্ত্রী হিসেবে আমি ঘোষণা করছি, আজারবাইজান প্রজাতন্ত্রের মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দরজা খোলা।’

তিনি আরও বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারী যেসব মেয়েকে শিক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী হিজাব ত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, তাঁদের জন্য ইরান স্বাগতপূর্ণ পরিবেশ দিতে পারে।

আজারবাইজানে হিজাব পরা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগের মধ্যে ইরানের এই আমন্ত্রণ এসেছে।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য মোহাম্মদরেজা মোহসেনি সানি এ বিষয়ে আজারবাইজানের জাতীয় সংসদের স্পিকার সাহিবা গাফারোভাকে চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে ধর্মীয় বিশ্বাস ও মাথায় স্কার্ফ পরার কারণে মেয়েদের স্কুলে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

ইরানি এই আইনপ্রণেতা তাঁর চিঠিতে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং শিশু অধিকার সনদের মতো আন্তর্জাতিক দলিলের উল্লেখ করেন। এসব দলিলে শিক্ষার অধিকার স্বীকৃত এবং বৈষম্য নিষিদ্ধ বলে তিনি তুলে ধরেন।

অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ তদন্ত এবং ধর্মীয় বিশ্বাস ও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অধিকারের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে মেয়েদের বাধ্য না করার জন্য আজারবাইজানের কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজারবাইজানে স্কুলের পোশাকবিধি কার্যকরের পর হিজাব পরা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নারী শিক্ষকদেরও মাথার স্কার্ফ খুলে ফেলতে নির্দেশ দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এসব বিধিনিষেধের প্রতিবাদে রাজধানী বাকুসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন ও বিক্ষোভের খবরও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।

এদিকে, বিক্ষোভের সঙ্গে তেহরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে বাকুতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস। দূতাবাস অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে বর্ণনা করেছে।

দূতাবাসের বক্তব্য, প্রমাণহীন অভিযোগ দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিভেদ বাড়াতে পারে এবং তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আজারবাইজানে হিজাবসংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ইরানের এই আমন্ত্রণ দুই দেশের শিক্ষা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়গুলোকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি