ইসরায়েলের নির্বাচনে ব্যালট নিয়ে বিতর্ক, একাধিক দলের অভিযোগ

ইসরায়েলের ২৬তম নেসেট নির্বাচন ঘিরে ভোটের ব্যালট নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে একাধিক রাজনৈতিক দলের ব্যালট না পাওয়া, ছেঁড়া বা কলমের দাগ দিয়ে বিকৃত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছে কয়েকটি দল। তাদের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ভোট বাতিল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

রিজার্ভিস্টস অ্যান্ড ইকোনমিক পার্টির চেয়ারম্যান ইয়োয়াজ হেন্ডেল বলেন, লিকুদ পার্টির ভুয়া তথ্য প্রচারের পর তাদের কাছে ব্যালট সরিয়ে নেওয়া ও বিকৃত করার বিষয়ে একাধিক অভিযোগ এসেছে।

গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার পার্টিও একই দিনে নির্বাচন কমিটির দ্বারস্থ হয়েছে। দলটির অভিযোগ, তাদের নির্বাচনী প্রতীক ‘দেরেখ’ লেখা ব্যালট কয়েকটি কেন্দ্রে পাওয়া যায়নি। কোথাও ব্যালট ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে, আবার কোথাও উল্টে রাখা হয়েছে। এতে ভোটারদের পছন্দের প্রার্থী বা দলকে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে দলটি।

ইয়াশার পার্টির বক্তব্য, ব্যালট সরিয়ে নেওয়া বা নষ্ট করার চেষ্টা নির্বাচনের স্বচ্ছতার ওপর সরাসরি আঘাত। এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে, রিলিজিয়াস জায়োনিস্ট পার্টি অভিযোগ করেছে, তাদের এবং লিকুদ পার্টির ব্যালটের কিনারায় ইচ্ছাকৃতভাবে ছোট ছোট ছেঁড়া দাগ তৈরি করা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যালটে দেওয়া ভোট অবৈধ ঘোষিত হতে পারে বলে দলটির আশঙ্কা। নির্বাচন কমিটিকে দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং ভোটকেন্দ্রে ব্যালট নিয়মিত পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

ইসরায়েল বেইতেনু ও পিপল অব ইসরায়েল পার্টিও ব্যালট না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছে। ইসরায়েল বেইতেনুর দাবি, কিরিয়াত ওনোর গামলা স্ট্রিটের ৪৫ নম্বর ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরুর সময় তাদের নির্বাচনী প্রতীকের ব্যালট রাখা হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি পরে জানায়, ওই কেন্দ্রে দলটির ব্যালট ছিল।

অন্যদিকে, পিপল অব ইসরায়েল পার্টি জানিয়েছে, সামরিক ও বেসামরিক-দুই ধরনের ভোটকেন্দ্র থেকেই তাদের ব্যালট উল্টে রাখার খবর এসেছে। এতে ব্যালটগুলো দেখতে ফাঁকা কাগজের মতো মনে হচ্ছিল বলে অভিযোগ দলটির।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন বি’ইয়াখাদ পার্টিও ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে নতুন করে নির্বাচন কমিটির কাছে অভিযোগ করেছে। দলটির দাবি, নিম্ন গ্যালিলি অঞ্চলের একটি মোশাভে তাদের প্রতিনিধিরা ভোটারদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণে ‘ইলেক্টর’ অ্যাপ ব্যবহারের খবর পেয়েছেন। তবে ওই বসতির নাম প্রকাশ করেনি দলটি।

এর আগে, লিকুদ পার্টির প্রতিনিধিরা অ্যাপ ব্যবহার করে ভোটারদের উপস্থিতি ও ভোটদানের তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করছেন-এমন অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। কমিটির ভাষ্য, মোশাভ ইয়ারহিভের একটি ভোটকেন্দ্রে ছবি তোলার বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছিল। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনকর্মীকে নিয়ম ব্যাখ্যা করার পর তিনি ছবি তোলা বন্ধ করেন।

নির্বাচন কমিটি আরও স্পষ্ট করেছে, কোনো ভোটার ভোটকেন্দ্রে এসেছেন কি না কিংবা ভোট দিয়েছেন কি না, সেই তথ্য অ্যাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলের কাছে সরবরাহ করা নিষিদ্ধ। এই নিয়ম সব দল ও তাদের প্রতিনিধিদের জন্য বাধ্যতামূলক।

লিকুদ পার্টি অবশ্য কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলটির দাবি, ভোটকেন্দ্রের বাইরে তাদের বুথ রয়েছে, যেখানে ভোটাররা স্বেচ্ছায় প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে পারেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৭টায় ইসরায়েলের ১২ হাজার ১৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য নাগরিকের সংখ্যা ৭৩ লাখ ৩১ হাজার ৯৮১। নেসেটের ১২০টি আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ৩৬টি রাজনৈতিক তালিকা।

নির্বাচনের ফলাফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট কিংবা বিরোধী পক্ষ-কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। নতুন সরকার শপথ নেওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সূত্র: দ্য জেরুসালেম পোস্ট