ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের জন্য এখনো আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকা বিভিন্ন প্রশ্নেরও সমাধান হয়নি। জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এ তথ্য জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি এসব বিষয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে গত তিন বছর ধরে যেসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি, সেগুলো পরিষ্কার করতে তেহরানের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে আইএইএ। তবে এসব বিষয়ে অগ্রগতি অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের সুযোগ পাওয়া জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গ্রোসি আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক বিরোধের সমাধানে পৌঁছানোর যেকোনো কার্যকর উদ্যোগের অংশ হতে হবে আইএইএর পরিদর্শন কার্যক্রম। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ নিরসনে কেবল কূটনৈতিক আলোচনা যথেষ্ট নয়; যাচাইযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং স্থাপনাগুলো পর্যবেক্ষণের সুযোগও প্রয়োজন।
নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ফ্রান্সের প্রতিনিধি অভিযোগ করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি-এর অধীনে নিজেদের বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে আন্তর্জাতিক চুক্তি মেনে চলার বিষয়ে তেহরানের দায়িত্ব পালনের প্রশ্নটি গুরুত্ব পায়।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি জানান, প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো আইএইএর পরিচালনা পর্ষদ ইরানের পারমাণবিক বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদে পাঠিয়েছে। এ পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগের মাত্রা এবং বিষয়টির কূটনৈতিক গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।
বাহরাইনের প্রতিনিধি বলেন, সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে ইরান আইএইএর কাছে থাকা নিজের বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে সংস্থাটির সঙ্গে তেহরানের দীর্ঘদিনের বিরোধের বিষয়টি উঠে আসে।
তবে নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার বিরোধিতা করেছে রাশিয়া। মস্কোর এই অবস্থান বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য তুলে ধরেছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে পর্যবেক্ষকদের প্রবেশাধিকার, চুক্তি অনুযায়ী বাধ্যবাধকতা পালন এবং অমীমাংসিত প্রশ্নগুলোর উত্তর। এসব বিষয়ে অগ্রগতি না হলে তেহরান ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে বিরোধ নিরসনের প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। আইএইএর পরিদর্শন এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই অচলাবস্থা কাটানো সম্ভব কি না, এখন সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল