‘মার্কিন অবরোধের কারণে ইরান অন্যায্য আচরণের শিকার হচ্ছে’

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম

ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নিজ দেশের স্বার্থ রক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইরাকের প্রভাবশালী রাজনীতিক আম্মার আল-হাকিম। তাঁর মন্তব্য ঘিরে ফারসিভাষী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক ছড়িয়েছে। ইরানের কট্টরপন্থী কিছু ব্যবহারকারী ইরাকের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন।

ইরানের সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর ইরাকিয়া টেলিভিশনকে দেওয়া আল-হাকিমের একটি সাক্ষাৎকারের অংশ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি ইরাকের ন্যাশনাল উইজডম মুভমেন্টের নেতা এবং দেশটির সাবেক সুপ্রিম ইসলামিক কাউন্সিলের প্রধান।

সাক্ষাৎকারে আল-হাকিম বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে না চললে ইরাককেও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে বলে ওয়াশিংটন বাগদাদকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে। তাঁর মতে, মার্কিন অবরোধের কারণে ইরান অন্যায্য আচরণের শিকার হচ্ছে বলে মনে করতে পারে। তবে রাষ্ট্র পরিচালনায় শুধু আবেগ ও আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, ইরাকের জনগণের প্রতি ইরানের জনগণের সঙ্গে সংহতি রয়েছে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার কারণে নিজের দেশের মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করাও বাগদাদের দায়িত্ব।

আল-হাকিমের বক্তব্যের পর ইরানের কট্টরপন্থী কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী তাঁকে অকৃতজ্ঞতা ও ওয়াশিংটনের কাছে নতি স্বীকারের অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির উপদেষ্টা এহসান সালেহিও তাঁর সমালোচনা করেন। অন্য কয়েকজন ব্যবহারকারী ইরাকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এমনকি হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরাকি তেল পরিবহন বন্ধ করার প্রস্তাবও দেন কেউ কেউ।

তবে সবাই আল-হাকিমের বিরোধিতা করেননি। সংস্কারপন্থী সাংবাদিক ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা মোহসেন সালেহিখাহ তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, আদর্শিক অবস্থানের চেয়ে দেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তাঁর মতে, ইরানের নেতৃত্বও যদি একইভাবে দেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দিত, তাহলে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।

এদিকে, ইরান ও ইরাকের মধ্যে সীমান্ত নিয়েও নতুন বিরোধ দেখা দিয়েছে। মাদকদ্রব্য ও জাল মুদ্রা চোরাচালান ঠেকানোর কথা জানিয়ে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি ফালেহ আল-জায়েদির এক উপদেষ্টা আল-শাইব-চাজাবেহ সীমান্ত ক্রসিং বন্ধের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবে ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, এ সিদ্ধান্তের আগে তেহরানকে জানানো হয়নি।

সীমান্ত বন্ধের ঘটনায় ইরানের কয়েকজন কট্টরপন্থী ব্যবসায়ী ও ভাষ্যকার ইরাকের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। ইরানি ব্যবসায়ী বাবাক জানজানি হরমুজ প্রণালিতে ইরাকের প্রবেশাধিকার আরও সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বাগদাদকে অবরোধের প্রকৃত অর্থ ও পরিণতি বুঝতে বাধ্য করা উচিত।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিশোধের এসব আহ্বান ইরান সরকারের আনুষ্ঠানিক নীতি বা সিদ্ধান্তের প্রমাণ নয়। দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে সীমান্ত বিরোধ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং পারস্পরিক জাতীয় স্বার্থ নিয়ে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।

সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

এটিটিআর
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত