৫৪ আসনে এগিয়ে নেতানিয়াহুর জোট, বিরোধীরা ৪৭ আসনে

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে চার কোটির বেশি ভোট গণনার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট ৫৪টি আসন পেতে যাচ্ছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালের হিসাব অনুযায়ী, বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৭টি আসন। অন্যদিকে আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নতুন সরকার গঠনের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

নির্বাচন কমিটির হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৭টি আসন পেতে পারে। এ ছাড়া ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম, শাস ও ওতজমা ইয়েহুদিত, প্রতিটি দল সাতটি করে আসন পেতে পারে। রিলিজিয়াস জায়োনিস্ট পার্টির সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ছয়টি।

অন্যদিকে গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি ২১টি আসন পেতে পারে। নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন বি’ইয়াখাদ পেতে পারে ১১টি আসন। ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটস পার্টির সম্ভাব্য আসন আটটি এবং আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনুর সাতটি। আরব দলগুলোর মধ্যে জয়েন্ট লিস্ট ১৩টি এবং রা’আম ছয়টি আসন পেতে পারে।

তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো জোটেরই নিশ্চিত নয়। নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাও ক্ষীণ। আইজেনকোট নেতানিয়াহুর অধীনে সরকারে যোগ দেওয়া, এমনকি পালাক্রমে প্রধানমন্ত্রিত্বের ব্যবস্থাতেও অংশ নেওয়ার বিরোধিতা করেছেন। বিরোধী শিবিরের অন্য নেতারাও নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

বিরোধী জোটের সবচেয়ে বড় দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী করার প্রস্তাব দিয়েছেন আইজেনকোট। তবে এ বিষয়ে জোটের ভেতরে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। আরব দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়াই আস্থা ভোটে জিতে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে। কিন্তু আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরতা নিয়ে বিরোধী শিবিরের একাংশের আপত্তি এ পথেও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। শেষ পর্যন্ত জোট গঠনের আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের বুথফেরত জরিপে কোনো পক্ষকেই স্পষ্ট বিজয়ী হিসেবে দেখা যায়নি। তখন নেতানিয়াহুর জোট ও তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাওয়া বিরোধী জোট, দুই পক্ষেরই আসনসংখ্যা ৬১-এর নিচে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। তবে বুধবার সকালের কিছু জরিপে নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা ৫৩ থেকে ৫৭-এর মধ্যে দেখানো হয়। আগের নির্বাচনে বুথফেরত জরিপের সঙ্গে চূড়ান্ত ফলাফলের পার্থক্য থাকায় আনুষ্ঠানিক গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত ফল জানা যাবে না।

নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ভোটার উপস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশে, যা ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। তবে নেতানিয়াহুর জোটের সম্ভাব্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে বাধা হতে পারে ডানপন্থী ছোট দলগুলোর নির্বাচনী ফল। ওফের উইন্টারের পিপল অব ইসরায়েল এবং ইয়োয়াজ হেন্ডেলের দ্য রিজার্ভিস্টস-ইকোনমিক পার্টি, দুটি দলই নির্বাচনী সীমা ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোটের নিচে থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বুথফেরত জরিপ প্রকাশের পর বিরোধী নেতারা নিজেদের জোটকে বিজয়ী দাবি করেছিলেন। আইজেনকোট বলেন, দেশটির ভোটাররা নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন এবং নতুন নির্বাচন আয়োজন করা ভুল হবে। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেন রাজনৈতিক স্বার্থে জাতীয় নিরাপত্তাকে ব্যবহার করতে না পারেন, সে বিষয়ে তাদের সতর্ক থাকতে হবে। সম্ভাব্য হামলা বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে নির্বাচনের ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত করার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন তিনি।

বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদও নেতানিয়াহুর জোটকে পরাজিত দাবি করে বলেন, জনগণ বর্তমান সরকারকে সরে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে। ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়ার গোলান বলেন, নতুন সরকার গঠনের ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং তাঁর দল অন্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর জোটের নেতারা আরও ফল আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন। ওতজমা ইয়েহুদিতের নেতা ইতামার বেন-গভির আইজেনকোটের সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের বিরোধিতা করে একে বড় ভুল বলে মন্তব্য করেছেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার সময় ইসরায়েলের ক্ষমতায় ছিল নেতানিয়াহুর ডানপন্থী সরকার। পরবর্তী যুদ্ধের পর বিরোধী শিবির নেতানিয়াহুকে ওই হামলার জন্য জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়ে আসছে। তারা রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনেরও আহ্বান জানিয়েছে। নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী; সব মেয়াদ মিলিয়ে তিনি ১৯ বছরেরও বেশি সময় এ পদে রয়েছেন। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট