ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মিথ্যা ছড়ানো, রাজনৈতিক বয়ান তৈরি এবং বিশৃঙ্খলা উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলীয় নেতা গাদি আইজেনকট। তার দাবি, নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগকে কাজে লাগিয়ে নেতানিয়াহু ও তার সহযোগীরা জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে নির্বাচনের ফল প্রকাশে বিলম্ব ঘটানো এবং নবনির্বাচিত পার্লামেন্টের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যেও এ পরিস্থিতি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে আইজেনকটের মুখপাত্র জানান, নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বিরোধী দলীয় নেতা। বিবৃতিতে বলা হয়, যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ, রাজনৈতিক প্রচারণা কিংবা কারসাজির চেষ্টা থেকে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা রক্ষায় রাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।
তবে আইজেনকট সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক পক্ষগুলোকে এই পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে ইসরায়েলের ২৬তম পার্লামেন্ট নেসেটের সদস্যদের শপথ গ্রহণের তারিখ প্রভাবিত করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
পরে দেওয়া আরেক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুকে কটাক্ষ করেন আইজেনকট। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, ইসরায়েলে কাতারের হস্তক্ষেপের নিন্দা জানাতে নেতানিয়াহু অবশেষে এগিয়ে এসেছেন, এটি স্বাগত জানানোর মতো বিষয়।
তবে অভিযোগগুলোর উৎস ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে আইজেনকট বলেন, নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। তার দাবি, অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য এবং সন্দেহের পরিধি এখনো পরিষ্কার নয়। এমন পরিস্থিতিতে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই এসব তথ্য ব্যবহার করে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
আইজেনকট আরও অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিথ্যা, পরিকল্পিত রাজনৈতিক বয়ান এবং বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর কৌশলে অভ্যস্ত। তার ভাষ্য, নেতানিয়াহু ও তার সহযোগীরা ইসরায়েলি জনগণকে প্রভাবিত করতে অনুচিত প্রচার চালাচ্ছেন। এর উদ্দেশ্য যথাসময়ে নির্বাচনের ফল প্রকাশে বিলম্ব ঘটানো এবং ২৬তম নেসেটের কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে ভিত্তিহীন বিতর্ক তৈরি করা।
বিরোধী দলীয় নেতার দাবি, নির্বাচনে জনগণ ব্যর্থ সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। সেই ফলকে দুর্বল করতে এখনো তদন্ত না হওয়া তথ্য ব্যবহার করার চেষ্টা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা উচিত।
তবে নির্বাচনে বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে হস্তক্ষেপের অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। এ বিষয়ে আইজেনকটের বক্তব্য নেতানিয়াহু বা তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত কোনো অপরাধের সিদ্ধান্ত নয়; বরং চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে বিরোধী দলীয় নেতার অবস্থান তুলে ধরে। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট