প্রায় পাঁচ বছর পর প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেছেন জাপান ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে রাশিয়ার কাছে আটক এক জাপানি সাংবাদিকের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি। পাশাপাশি ইউক্রেনে ন্যায়সংগত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় মস্কোকে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিতে বর্তমানে আটলান্টায় অবস্থান করছেন মোতেগি। সেখানেই শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে প্রায় ৩০ মিনিট বৈঠক করেন তিনি। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের পর এই প্রথম দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকেরা আনুষ্ঠানিকভাবে সরাসরি বৈঠকে বসলেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই ছিল তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক মুখোমুখি বৈঠক।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে মোতেগি রাশিয়ার কাছে হোক্কাইডো শিমবুন পত্রিকার আটক সাংবাদিককে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জোর দাবি জানান। গত ১৩ অক্টোবর রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের সাখালিন অঞ্চলে গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে দেশটির ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস ওই সাংবাদিককে আটক করে। মোতেগি আটক সাংবাদিকের সঙ্গে মানবিক আচরণ এবং তার প্রতি ন্যায়সংগত ও নিরপেক্ষ আচরণ নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এর মধ্যে ছিল রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের খাবারোভস্ক শহরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের জাপানের বিরুদ্ধে বিজয় স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন। ওই স্মৃতিস্তম্ভে সোভিয়েত এক সেনাকে ক্রিস্যানথিমাম ফুলের প্রতীক খোদাই করা একটি পাথর ভেঙে ফেলতে দেখা যায়। এ ছাড়া আগস্টে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইতোরোফু দ্বীপ সফরের বিষয়টিও আলোচনায় তোলেন মোতেগি।
ইতোরোফু দ্বীপটি জাপানে নর্দার্ন টেরিটরিজ নামে পরিচিত চারটি দ্বীপের একটি। দ্বীপগুলো বর্তমানে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জাপান সেগুলোর ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে। জাপান সরকারের অবস্থান, দ্বীপগুলো তাদের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সেগুলো অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাপানের অনুরোধেই আটলান্টায় দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে তাদের বিবৃতিতে আটক জাপানি সাংবাদিকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়নি। মন্ত্রণালয়টি বলেছে, দ্বিপক্ষীয় পূর্ণাঙ্গ সংলাপ পুনরায় শুরু করতে হলে জাপানকে তার রাশিয়াবিরোধী নীতি পরিত্যাগ করতে হবে। ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযানের পর টোকিওর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রয়োজনীয়তার কথাও মস্কো তুলে ধরেছে।
দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান টানাপোড়েনের মধ্যেও যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন মোতেগি ও ল্যাভরভ। চলতি বছরের জুলাইয়ে ফিলিপাইনে তাদের সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় হয়েছিল। তবে শুক্রবারের বৈঠকটি ছিল পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক সরাসরি আলোচনা। সূত্র: এনএইচকে ওয়ার্ল্ড জাপান