রুয়ান্ডার সমর্থনপুষ্ট বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩-এর সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সহায়তা চেয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদি। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাশিয়া-আফ্রিকা সম্মেলনের সমাপনী পর্যায়ে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কঙ্গোয় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও রাশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় শিসেকেদি বলেন, রুয়ান্ডার সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় রাশিয়ার সহায়তা তিনি একান্তভাবে চান। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে রাশিয়া এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সংঘাত চলছে। ২০২১ সাল থেকে দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এম২৩ সশস্ত্র গোষ্ঠী অন্যতম প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে। কঙ্গো সরকার অভিযোগ করে আসছে, প্রতিবেশী রুয়ান্ডা এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সমর্থন দিচ্ছে। গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কিনশাসা ও কিগালি একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছালেও সংঘাত থামেনি।
কঙ্গো সরকার বারবার দেশটির ভূখণ্ড থেকে রুয়ান্ডার সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামের সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুয়ান্ডার সেনারা এখনো এম২৩-কে সহায়তা করছে।
এদিকে রুয়ান্ডা দাবি করে আসছে, কঙ্গোকে দেশটির পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস ফর দ্য লিবারেশন অব রুয়ান্ডা (এফডিএলআর) গোষ্ঠীকে নিষ্ক্রিয় করতে হবে। ১৯৯৪ সালে তুতসি জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যার জন্য দায়ী সাবেক হুতু কর্মকর্তাদের প্রতিষ্ঠিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী এটি।
শিসেকেদি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কঙ্গোয় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশন মনুস্কোর মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও পুতিনের সহায়তা চেয়েছেন। আগামী ডিসেম্বরে মিশনটির বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। আফ্রিকায় সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জোরদার করেছে রাশিয়া। সূত্র: আফ্রিকা নিউজ