যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের পথ খুলতে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো চিঠিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ইরান। তবে আলোচনায় বসার জন্য ওয়াশিংটনকে তেহরানের শর্ত পূরণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। একই সঙ্গে আপাতত মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার সুযোগ তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ ইতিবাচক। চিঠিটি নিয়ে তেহরানে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার চিঠিটি হাতে পেলেও ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এর জবাব দেয়নি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে নিছক জল্পনা বলে উল্লেখ করেন আরাঘচি। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের প্রয়োজন দেখছে না ইরান। তেহরানের শর্তগুলো স্পষ্ট এবং মধ্যস্থতাকারীরা সেগুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। সরাসরি কিংবা পরোক্ষ, যেকোনো ধরনের আলোচনা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে এসব শর্ত মেনে নিতে হবে।
ভ্যান্সের চিঠির উদ্দেশ্য নিয়ে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, চিঠি পাঠানোর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য যদি ইরানের অভ্যন্তরে বিভেদ তৈরি করা হয়ে থাকে, তবে সেটি হবে ওয়াশিংটনের আরেকটি ভুল পদক্ষেপ।
এদিকে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেননি আরাঘচি। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনার বিষয়ে কোনো পরিস্থিতিই বাদ দিচ্ছে না ইরান। সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অস্ত্রভান্ডার উন্নত করা, সামরিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা এবং নতুন অস্ত্র পরীক্ষা করার কথাও জানান তিনি। তাঁর দাবি, ইরানের সামরিক বাহিনী এখন সর্বোচ্চ প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে।
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া প্রস্তাবও পর্যালোচনা করছে তেহরান। আরাঘচি জানান, এ বিষয়ে আলোচনা এখন দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর এক সহকারী পরামর্শ ও আলোচনা চালিয়ে যেতে কাতারে অবস্থান করছেন। ইরানের শর্তগুলো নিয়ে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরাও আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন।
আরাঘচির ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের প্রস্তাব বাস্তবায়নের সময়সীমা পাঁচ দিন থেকে কমিয়ে দুই দিনে আনার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তেহরানের শর্তের মধ্যে রয়েছে ইসলামাবাদ সমঝোতার পর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা কমানো, তেল রপ্তানিতে ছাড় পুনর্বহাল এবং কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের সব অর্থ ছাড় করা।
ইরানের এসব শর্ত মেনে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরুর পথ তৈরি হবে বলেও মনে করেন আরাঘচি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইরান আত্মসমর্পণ করবে না বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। নিজেদের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করেই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা ও তা কাটিয়ে ওঠার প্রত্যয় জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট