জর্ডানের ২০২৭ সালের সাংস্কৃতিক নগরীর স্বীকৃতি পেল হমুদ

সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পর গ্রামটির বাসিন্দাদের প্রতি সংহতি জানাতে জর্ডানের কারাক প্রদেশের হমুদ গ্রামকে ২০২৭ সালের জাতীয় সাংস্কৃতিক নগরী হিসেবে ঘোষণা করেছে দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে গ্রামটির ঐতিহ্য, শিক্ষা ও সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিও দেওয়া হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) এ ঘোষণা দেন জর্ডানের সংস্কৃতিমন্ত্রী মুস্তাফা রাওয়াশদেহ।

কারাকের হমুদ চ্যারিটি অ্যাসোসিয়েশনে জর্ডান ফ্যামিলি লাইব্রেরি প্রকল্পের ২০তম আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ‘প্রতিটি ঘরে একটি গ্রন্থাগার’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচি ‘রিডিং ফর অল ফেস্টিভ্যাল’ নামেও পরিচিত। অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, জর্ডানের জাতীয় স্মৃতিতে হমুদের বিশেষ স্থান রয়েছে। শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে গ্রামটির অবদান এবং বাসিন্দাদের ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালে হমুদে একটি নতুন গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা, সাংস্কৃতিক সড়ক নির্মাণ, আরবি কথাসাহিত্যে হমুদ পুরস্কার চালু এবং গ্রামটির ইতিহাস ও বাসিন্দাদের আত্মত্যাগ স্মরণে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামটির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের অবদানও তুলে ধরা হবে।

সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গ টেনে রাওয়াশদেহ বলেন, এই স্বীকৃতি শোকাহত বাসিন্দাদের প্রতি সংহতির বার্তাও বহন করছে। উগ্রবাদ, ঘৃণা ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে জ্ঞান ও সংস্কৃতির ভূমিকা তুলে ধরাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। বক্তব্যের শুরুতে হামলায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন তিনি এবং পবিত্র কোরআনের সূরা ফাতিহা তিলাওয়াত করা হয়। মন্ত্রী বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনা পুরো জাতিকে নাড়া দিয়েছে।

হমুদের শিক্ষাগত ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন সংস্কৃতিমন্ত্রী। তিনি জানান, এক শতাব্দীরও বেশি আগে গ্রামের বাসিন্দারা নিজেদের অর্থ ও উদ্যোগে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ওই বিদ্যালয়ে শুধু হমুদ নয়, আশপাশের গ্রামের শিশুরাও পড়াশোনার সুযোগ পেত। সাহিত্যক্ষেত্রেও গ্রামটির অবদান রয়েছে। বিশেষ করে আরব বিশ্বের খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক গালিব হালাসার জন্মস্থান হিসেবে হমুদের পরিচিতির কথা উল্লেখ করেন তিনি।

জর্ডান ফ্যামিলি লাইব্রেরি প্রকল্পের উদ্বোধন হমুদ থেকে করার মধ্য দিয়ে বই ও শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান রাওয়াশদেহ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিনা মূল্যে বিতরণ করা বইগুলো হামলায় নিহত গ্রামবাসীদের স্মৃতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়েছে। তার মতে, অজ্ঞতা ও উগ্রবাদ মোকাবিলায় পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং মানুষের কাছে বই পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

প্রকল্পটির লক্ষ্য পরিবার, শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য স্বল্পমূল্যে বিভিন্ন ধরনের বই সহজলভ্য করা। এর মাধ্যমে ঘরে ঘরে ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার গড়ে তোলা এবং আজীবন শেখার অভ্যাস উৎসাহিত করতে চায় আয়োজকেরা। ১ থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত জর্ডানের বিভিন্ন নির্ধারিত প্রদর্শনী ও বিক্রয়কেন্দ্র থেকে বই সংগ্রহের জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।

রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন জাতীয় উন্নয়ন-দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্ঞানচর্চার সুযোগ বাড়ানো, জাতীয় পরিচয় সংরক্ষণ এবং মধ্যপন্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জোরদারে মন্ত্রণালয়ের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

জর্ডান ফ্যামিলি লাইব্রেরি প্রকল্পের পরিচালক সালেম দাহাম বলেন, উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজনের জন্য হমুদকে বেছে নেওয়া গ্রামটির জাতীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের স্বীকৃতি। অন্যদিকে হমুদ হেরিটেজ রিভাইভাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারেস হালাসা স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষে এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তার মতে, এই স্বীকৃতি গ্রামটির ইতিহাস ও ত্যাগকে সম্মানিত করার পাশাপাশি শিক্ষা, সহাবস্থান ও জাতীয় ঐক্যের প্রতি বাসিন্দাদের অঙ্গীকারকে তুলে ধরেছে। সূত্র: জর্ডান নিউজ এজেন্সি