ইরাক পূর্ণাঙ্গ সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছে: শেখ হাম্মাম

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম

ইরাককে পূর্ণাঙ্গ সার্বভৌমত্বের পথে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে দেশটির সরকার। এ প্রক্রিয়ায় সরকারের নীতি ও পরিকল্পনা নির্ধারণের দায়িত্ব পালন করছে কো-অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক। আর প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি সেই নীতি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম ইসলামিক কাউন্সিলের প্রধান ও ন্যাশনাল উইজডম মুভমেন্টের প্রধান শেখ হাম্মাম হাম্মুদি।

ইরাকি নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাম্মুদি বলেন, কো-অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক সরকারের জন্য সামগ্রিক দিকনির্দেশনা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি সেসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ করছেন। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বয় ও সহযোগিতা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হাম্মুদি বলেন, ইরাকের সামনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো পূর্ণাঙ্গ সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশটির ভূখণ্ড থেকে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহার, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

তিনি জানান, ইরাক থেকে আন্তর্জাতিক জোট ও ন্যাটো বাহিনীর প্রত্যাহার এবং তুরস্কের সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বছরের শেষ নাগাদ তুরস্কের সেনা প্রত্যাহার নিয়ে একটি সমঝোতা বাস্তবায়নের আশা রয়েছে। পাশাপাশি তুরস্ক ও ইরানের বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং তাদের নিরস্ত্রীকরণ ও অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন হাম্মুদি। তাঁর মতে, ইরাকের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে প্রতিরোধ অক্ষের বিভিন্ন ফ্রন্টের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থনৈতিক বিষয়ে হাম্মুদি বলেন, বিশ্বব্যাংকের প্রভাব ও শর্তের কারণে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ইরাকের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত যেন দেশের স্বার্থ ও স্বাধীনতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের কথাও জানান তিনি।

শিক্ষা খাতে সহায়তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্কুল নির্মাণ ও উন্নয়নে ব্যবসায়ীদের অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আলী ফালিহ আল-জাইদির উদ্যোগের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ইরানের অভিজ্ঞতা থেকেও শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন হাম্মুদি। সূত্র: ইরাকি নিউজ এজেন্সি

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত