কাতারের অর্থ নেওয়ার সন্দেহে ইসরায়েলের আরব এমপির বিরুদ্ধে তদন্ত

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রচার চালাতে কাতার থেকে হাজার হাজার শেকেল নেওয়ার অভিযোগে জয়েন্ট লিস্টের এক বর্তমান সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই অর্থ দলটির নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্তের এই পর্যায়ে অর্থটি কী কাজে ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাননি তদন্তকারীরা। এমনকি অর্থের উৎস যে কাতার, তার পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।

রোববার (১ নভেম্বর) ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম আই২৪নিউজ প্রথম এ খবর প্রকাশ করে। তবে অভিযুক্ত সংসদ সদস্যের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তকারীরা অর্থ ব্যবহারের কয়েকটি সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখছেন। এর মধ্যে রয়েছে দলের সাধারণ নির্বাচনী ব্যয় মেটানো এবং ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ।

এর আগে ইসরায়েলের আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোটের ফল প্রভাবিত করতে বিদেশি পক্ষের অর্থায়নের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে শিন বেত। সম্ভাব্য অর্থদাতাদের মধ্যে কাতার ও তুরস্কের নামও এসেছে। গত বৃহস্পতিবার দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গ এ বিষয়ে তদন্ত শুরুর আহ্বান জানান।

এদিকে এন১২ নিউজ জানিয়েছে, নির্বাচনের আগেই অবৈধ অর্থ লেনদেনের সম্ভাব্য তথ্য পেয়েছিল শিন বেত। তবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান সোলবার্গসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সে বিষয়ে জানানো হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইসরায়েলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ কিংবা ফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তার অভিযোগ, নির্বাচনের পর ইসরায়েলের কয়েকজন রাজনীতিক ও তাদের গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ কাতারকে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধে জড়ানোর চেষ্টা করছেন।

এদিকে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে লিকুদ পার্টির পক্ষ থেকে যে দাবি করা হয়েছিল, তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে দেওয়া এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, নির্বাচনের দিন ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে তুলনামূলকভাবে কমসংখ্যক ঘটনা ঘটেছে। লিকুদের তোলা অভিযোগের পক্ষে তদন্ত বা গোয়েন্দা তথ্যের কোনো ভিত্তিও পাওয়া যায়নি।

কাতারের অর্থায়ন নিয়ে ওঠা অভিযোগকে গুরুতর বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ও ওতজমা ইয়েহুদিত পার্টির চেয়ারম্যান ইতামার বেন-গভির। তার ভাষ্য, বিদেশি অর্থ ব্যবহার করে নির্বাচনে ঘুষ দেওয়া বা ভোটের ফল প্রভাবিত করার প্রমাণ পাওয়া গেলে তা হবে বড় ধরনের দুর্নীতির ঘটনা এবং ইসরায়েলের গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত। এ ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের কারাদণ্ডের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যত দ্রুত সম্ভব নতুন নির্বাচন আয়োজনেরও দাবি তুলেছেন বেন-গভির। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট