নতুন নির্বাচন আয়োজনের দাবি তুলেছেন বেন-গভির

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

ইসরায়েলের নির্বাচনে বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে ভোটের ফল প্রভাবিত করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে নতুন নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে কোনো সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তার কারাদণ্ড হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। সম্প্রতি কাতার থেকে অর্থ নেওয়ার সন্দেহে জয়েন্ট লিস্টের এক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর পরিপ্রেক্ষিতে এ বক্তব্য দেন বেন-গভির।

রোববার (১ নভেম্বর) ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম আই২৪নিউজ জানায়, দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত জয়েন্ট লিস্টের এক বর্তমান সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, তিনি কাতার থেকে কয়েক হাজার শেকেল পেয়েছেন, যা দলটির নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে অভিযুক্ত সংসদ সদস্যের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

তদন্তকারীরা অর্থটি কী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন। সম্ভাব্য ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে দলের সাধারণ নির্বাচনী ব্যয় মেটানো এবং ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ ব্যয়। তবে তদন্তের এ পর্যায়ে অর্থের প্রকৃত ব্যবহার সম্পর্কে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি অর্থের উৎস যে কাতার, সে বিষয়ে তদন্তকারীদের হাতে কী প্রমাণ রয়েছে, সেটিও স্পষ্ট নয়।

এর আগে ইসরায়েলের আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোটের ফল প্রভাবিত করতে বিদেশি পক্ষের অর্থায়নের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে শিন বেত। সম্ভাব্য অর্থদাতাদের তালিকায় কাতার ও তুরস্কের নামও এসেছে। গত বৃহস্পতিবার দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গ এ বিষয়ে তদন্ত শুরুর আহ্বান জানান।

এন১২ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগেই অবৈধ অর্থ লেনদেনের সম্ভাব্য তথ্য পেয়েছিল শিন বেত। তবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান সোলবার্গসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সে বিষয়ে জানানো হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ এবং ফল প্রভাবিত করার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে অস্বীকার করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইসরায়েলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ কিংবা নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তার অভিযোগ, নির্বাচনের পর ইসরায়েলের কয়েকজন রাজনীতিক ও তাদের গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ কাতারকে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধে জড়ানোর চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে লিকুদ পার্টির পক্ষ থেকে করা দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, নির্বাচনের দিন ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে তুলনামূলকভাবে কমসংখ্যক ঘটনা ঘটেছে। লিকুদের তোলা অভিযোগের পক্ষে তদন্ত বা গোয়েন্দা তথ্যের কোনো ভিত্তিও পাওয়া যায়নি।

বেন-গভির এক বিবৃতিতে বলেন, বিদেশি অর্থ ব্যবহার করে নির্বাচনে ঘুষ দেওয়া এবং ফল প্রভাবিত করার প্রমাণ পাওয়া গেলে তা হবে বড় ধরনের দুর্নীতির ঘটনা। একই সঙ্গে এটি ইসরায়েলের গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুতর আঘাত। এ ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের কারাদণ্ড হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুত নতুন নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান ইসরায়েলের এই জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত