তেহরানে চার দেশের বৈঠক, আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

ইরান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে নিয়ে তেহরানে অনুষ্ঠিত চার দেশীয় বৈঠক মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বৃহত্তর কাঠামো গড়ে তোলার পথ খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন ইরানের মিসরে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত।

তাসনিম নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের রাষ্ট্রদূত মোজতবা ফেরদৌসিপুর বলেন, বৈঠকের চূড়ান্ত বিবৃতিতে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আন্তরিকতার প্রতিফলন ঘটেছে।

তবে তাঁর মতে, কেবল ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে এই উদ্যোগ বেশি দূর এগোবে না। বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া গেলে চার দেশের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক সহযোগিতার রূপ নিতে পারে।

ইরান ও মিসরের সম্পর্ক নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ফেরদৌসিপুর। তাঁর রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের সদিচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। কূটনৈতিক সম্পর্ক পুরোপুরি পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে তেহরান। পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ভিত্তিতে এ বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা প্রশমনে মিসরের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এই কূটনীতিক। তবে তাঁর বক্তব্য, যেকোনো মধ্যস্থতায় ইরানের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারকে সম্মান জানাতে হবে। তেহরান আন্তরিক কূটনৈতিক আলোচনায় আগ্রহী, কিন্তু চাপ কিংবা হুমকির মুখে কোনো সমঝোতায় যাবে না।

পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এ অঞ্চলের দেশগুলোর নেতৃত্বেই গড়ে তোলার পক্ষে ইরান। ফেরদৌসিপুরের দাবি, বিদেশি সামরিক উপস্থিতি এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা আনতে পারেনি। কোনো দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়, এমন অন্তর্ভুক্তিমূলক আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্যোগে অংশ নিতে তেহরান প্রস্তুত।

ইয়েমেন ও গাজা পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। তাঁর মতে, ইয়েমেন সংকটের সামরিক সমাধান সম্ভব নয়। এ জন্য সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপের পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন।

গাজায় মিসরের মধ্যস্থতার উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও ফেরদৌসিপুর মনে করেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক মহলকে সমন্বিত চাপ সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে অবরোধ প্রত্যাহার, নির্বিঘ্নে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি