ইরানের নিশানায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সম্পদ: আবদোল্লাহি

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ ও খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য—উভয় ধরনের সম্পদ এখন ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর নাগালের মধ্যে রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই তার জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ‘বিশ্ব আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় এসব কথা বলেন জেনারেল আবদোল্লাহি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বার্তায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথভাবে চাপিয়ে দেওয়া ৪০ দিনের যুদ্ধের পর ইরান বিশ্বের উদীয়মান চতুর্থ শক্তিকেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ইরান বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।

ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৩ আবান একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৬৪ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনিকে নির্বাসনে পাঠানো, ১৯৭৯ সালে বিপ্লবী ছাত্রদের ওপর হামলা এবং একই বছর তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখলের ঘটনাকে স্মরণ করে দিনটি পালন করা হয়। ইরানে দিনটি ‘বিশ্ব আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পরিচিত।

জেনারেল আবদোল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাত কেবল সামরিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বৈশ্বিক ক্ষমতার কাঠামোকেও প্রভাবিত করছে। তাঁর ভাষায়, আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা-ছাতার ওপর নির্ভরশীল না থেকেও সক্ষম—ইরান সেই বাস্তবতার উদাহরণ তৈরি করেছে।

তিনি দাবি করেন, ইরান যুদ্ধ চায় না। তবে সময় ও পরিস্থিতির বাস্তবতা বিবেচনায় দেশটির সামরিক নীতি এখন ‘প্রতিরক্ষা’ থেকে ‘আক্রমণাত্মক উদ্যোগ’ এবং ‘সংকট ব্যবস্থাপনা’ থেকে ‘শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার’ দিকে অগ্রসর হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির জবাব দেওয়া হবে এবং সেই জবাবের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক সীমা বিবেচনায় নেওয়া হবে না।

যুদ্ধের অবসানের শর্ত তুলে ধরে আবদোল্লাহি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য লেবানন ও গাজাসহ সব фронটে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

যুদ্ধ বন্ধে তাঁর প্রস্তাবিত সাত দফার মধ্যে রয়েছে—নতুন করে আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা, বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠন এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার জন্য একটি নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। তাঁর মতে, এই ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা কাঠামোর বিকল্প হতে পারে।

ইরানের সামরিক প্রস্তুতি প্রসঙ্গে জেনারেল আবদোল্লাহি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী ও দেশের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত সদস্যরা জনগণের সমর্থন নিয়ে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। সর্বোচ্চ প্রতিরোধক্ষমতা নিশ্চিত করতে সামরিক সক্ষমতা ও প্রস্তুতি নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ও কৌশলগত সম্পদের ওপর নজরদারি এবং লক্ষ্যবস্তুর তথ্যভান্ডার নিয়মিত হালনাগাদ করছে ইরান। যেকোনো ধরনের হুমকির তাৎক্ষণিক ও কার্যকর জবাব দেওয়ার সক্ষমতা দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এএইচএ
আরও পড়ুন