চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির পথে হাঁটলে কানাডার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে সতর্ক করে তিনি বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ কানাডাকে চরম বিপদের মুখে ঠেলে দেবে।
ট্রাম্প তাঁর বার্তায় দাবি করেন, ‘চীন কানাডাকে জ্যান্ত গিলে খাবে। তারা কানাডার ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক কাঠামো এবং সাধারণ জীবনযাত্রাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেবে।’
তিনি সাফ জানিয়ে দেন, কানাডা যদি চীনের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে জড়ায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী সমস্ত কানাডিয়ান পণ্যের ওপর অনতিবিলম্বে ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হবে।
ট্রাম্পের এই নজিরবিহীন হুমকির পর সরাসরি তাঁর নাম উল্লেখ না করলেও একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি দেশের অর্থনীতি রক্ষায় কানাডিয়ানদের দেশীয় পণ্য কেনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বিদেশি হুমকির মুখে আমাদের অর্থনীতি এখন বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। অন্য দেশ কী করবে তা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, তবে আমরা নিজেদের সেরা গ্রাহক হয়ে দেশীয় উৎপাদন সচল রাখতে পারি।’
উল্লেখ্য, চলতি মাসেই মার্ক কার্নি চীন সফর করে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উন্নয়নের একটি রূপরেখা তৈরি করেন। মজার বিষয় হলো, গত ১৬ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প এই উদ্যোগের প্রশংসা করলেও মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তাঁর অবস্থানে আমূল পরিবর্তন দেখা গেল।
তবে কানাডার পাবলিক সেফটি এবং বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ক দাবি করেছেন যে, চীনের সঙ্গে কোনো ‘মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ হচ্ছে না। তিনি জানান, আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট কিছু শুল্ক সমস্যার সমাধান করা। অন্যদিকে, কানাডায় নিযুক্ত চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, তারা দুই দেশের ঐকমত্য বাস্তবায়নে প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের ধারণা, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থানের সমালোচনা করেছিলেন মার্ক কার্নি। সেই ব্যক্তিগত রেষারেষি এবং উত্তর আমেরিকায় আধিপত্য বজায় রাখতেই ট্রাম্প এখন কানাডাকে এমন নজিরবিহীন বাণিজ্যিক হুমকির মুখে দাঁড় করিয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স