মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ আরও চড়িয়ে ওই অঞ্চলে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ইরানকে লক্ষ্য করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সামরিক হুঁশিয়ারির পর পেন্টাগনের এই পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
সম্প্রতি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হলেও ট্রাম্পের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে ভিন্ন সুর। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি একটি কার্যকর পারমাণবিক চুক্তিতে আসতে ব্যর্থ হয়, তবে দেশটিকে ‘খুবই বেদনাদায়ক’ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ক্যারিবিয়ান সাগরে মোতায়েন থাকা ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ ও এর সহযোগী যুদ্ধজাহাজগুলোকে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই রণতরীর যুদ্ধবিমানগুলো গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় পরিচালিত সেই আলোচিত অভিযানে অংশ নিয়েছিল, যেখানে দেশটির নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়।
এর আগে গত মাসের শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ নামে একটি শক্তিশালী রণতরী ও এর যুদ্ধবহর পাঠিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। সেটি এখনো উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থান করছে। নতুন এই রণতরী মোতায়েন হলে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও কয়েক গুণ শক্তিশালী হবে।
তবে ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড বা ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন কতদিন মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করবে, সে বিষয়ে পেন্টাগন এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই সামরিক কৌশল গ্রহণ করেছে।