দুর্নীতির অভিযোগে দুই নেতার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩১ এএম

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দুই দ্বীপদেশ মার্শাল আইল্যান্ডস ও পালাউয়ের দুই প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ওপর ‘গুরুতর দুর্নীতির’ অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই নেতাদের দুর্নীতি ও কর্মকাণ্ড ওই অঞ্চলে চীনের প্রভাব বিস্তারের পথ সুগম করেছে।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পালাউয়ের সিনেট প্রেসিডেন্ট হকনস বাউলেস এবং মার্শাল আইল্যান্ডসের সাবেক মেয়র অ্যান্ডারসন জিবাসের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে তারা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অধিকার হারালেন।

পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থ আত্মসাৎ কিংবা মার্কিন জাতীয় স্বার্থ হুমকির মুখে ফেললে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, পালাউয়ের সিনেট প্রেসিডেন্ট হকনস বাউলেস চীনের স্বার্থ হাসিলের বিনিময়ে বিপুল অর্থ ঘুষ নিয়েছেন। উল্লেখ্য, পালাউ বিশ্বের সেই অল্প কয়েকটি দেশের একটি যারা এখনো তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, যা বেইজিংয়ের জন্য একটি বড় অস্বস্তির কারণ।

অন্যদিকে, মার্শাল আইল্যান্ডসের সাবেক মেয়র অ্যান্ডারসন জিবাসের বিরুদ্ধে ‘বিকিনি রিসেটেলমেন্ট ট্রাস্ট’ তহবিলের অর্থ অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মার্কিন সহায়তায় গঠিত এই তহবিলটি মূলত পারমাণবিক বোমা পরীক্ষায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সংরক্ষিত ছিল। ২০১৭ সালে এই তহবিলের পরিমাণ ছিল ৫৯ মিলিয়ন ডলার, যা জিবাসের নিয়ন্ত্রণে থাকাকালীন ২০২৩ সালে মাত্র ১ লাখ ডলারে নেমে আসে। ফলে ভুক্তভোগীরা অর্থ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন।

মার্কিন বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই দুর্নীতির ফলে দেশগুলোতে খাদ্যসংকট ও বেকারত্ব বেড়েছে এবং মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হতে বাধ্য হচ্ছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে চীনের মতো ‘বিদ্বেষী শক্তি’ ওই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কৌশলের জন্য হুমকিস্বরূপ।

পালাউ ও মার্শাল আইল্যান্ডস ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং ‘কমপ্যাক্ট অব ফ্রি অ্যাসোসিয়েশন’ চুক্তির আওতায় মার্কিন প্রতিরক্ষা বলয়ের অন্তর্ভুক্ত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু ও স্থানীয় নেতাদের দুর্নীতির কারণে ওয়াশিংটনের সঙ্গে এই দ্বীপদেশগুলোর সম্পর্কের কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

DR/AHA
আরও পড়ুন