মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বুধবার (৪ মার্চ) পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, চলমান ইরান-যুদ্ধের পরিস্থিতিতে চীন ও রাশিয়া কোনো বড় ফ্যাক্টর নয়। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া ও চীন—যাদের উভয়েরই ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে—তাদের জন্য আমাদের কোনো বিশেষ বার্তা নেই। তারা আসলে এখানে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয় এবং তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।‘
হেগসেথ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ মনোযোগ এখন ইরানের তথাকথিত ‘পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ বন্ধ করার দিকে। তিনি বলেন, ‘এটি কখনো একটি ন্যায্য লড়াই হওয়ার কথা ছিল না এবং এটি এখনও ন্যায্য লড়াই নয়। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এ আক্রমণ কেবল শুরু। শিগগিরই আরও শক্তিশালী হামলার ঢেউ ধেয়ে আসছে।‘
এ সময় তিনি আরো সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেন, ‘ইরান যখন দুর্বল অবস্থায়, আমেরিকা তখন কঠোর আক্রমণ চালাচ্ছে।‘ তার এই মন্তব্যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপের প্রকৃত গভীরতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
পেন্টাগনে হেগসেথ আরও জানিয়েছেন, ভারত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়েছে। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি প্রথমবারের মতো মার্কিন সাবমেরিন টর্পেডো হামলার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা হলো।‘ এই ধ্বংসযজ্ঞে ইরানের ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
হেগসেথের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক চাপ সামনের দিনগুলোতে আরও বেড়ে যাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত মহাসাগর, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য কৌশলগত স্থানের ওপর নজরদারি ও সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী ইরানকে একাধিক ফ্রন্টে ব্যস্ত রাখতে চাইছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, চীন-রাশিয়ার সামরিক বা কূটনৈতিক হস্তক্ষেপকে তারা কোনোভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে গণ্য করছে না। হেগসেথ বলেন, ‘আমাদের মনোযোগ এখন শুধুই ইরানের ‘পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ বন্ধ করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।