মামদানির বাড়ির সামনে ‘আইএস সমর্থকের’ বোমা হামলা

নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানির সরকারি বাসভবনের সামনে ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বা হাতে তৈরি বোমা নিক্ষেপের অভিযোগে দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে এই হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল।

সোমবার (৯ মার্চ) ফেডারেল আদালতে দায়ের করা ১০ পৃষ্ঠার একটি ফৌজদারি অভিযোগে ১৮ বছর বয়সী ইমির বালাত এবং ১৯ বছর বয়সী ইব্রাহিম কায়ুমির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত শনিবার ম্যানহাটনের আপার ইস্ট সাইডে মেয়রের বাসভবন ‘গ্র্যাসি ম্যানশন’-এর সামনে একটি ইসলামবিদ্বেষী বিক্ষোভ চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ইব্রাহিম কায়ুমি বিস্ফোরকগুলো সরবরাহ করেন এবং ইমির বালাত সেগুলো বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করেন। তবে সৌভাগ্যবশত কোনোটিই বিস্ফোরিত হয়নি। পরবর্তীতে এনওয়াইপিডি (NYPD) বোম্ব স্কোয়াড সেগুলো উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। ঘটনার সময় মেয়র মামদানি ও তার পরিবার বাসায় ছিলেন না।

তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই এবং এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর ইমির বালাত আইএসের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে। সে জানিয়েছে, ২০১৩ সালের বোস্টন ম্যারাথন হামলার চেয়েও ভয়াবহ কিছু করার পরিকল্পনা ছিল তার।

পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, উদ্ধারকৃত বোমাগুলোতে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং উদ্বায়ী রাসায়নিক বিস্ফোরক টিএটিপি (TATP) ছিল, যা ‘মাদার অফ শয়তান’ (Mother of Satan) নামে পরিচিত। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, এটি একটি ‘আইএস অনুপ্রাণিত’ সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা ছিল।

মেয়র জোহরান মামদানি পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, ‘পেনসিলভানিয়া থেকে আসা এই দুই তরুণ নিউইয়র্কে সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা করেছিল। নিউইয়র্ক শহর কখনোই এ ধরনের উগ্রবাদ বরদাস্ত করবে না।’

তিনি আরও বলেন, যদিও বিক্ষোভটি অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও ইসলামবিদ্বেষী ছিল, তবুও আইনের অধীনে তা করার অধিকার রয়েছে, কিন্তু সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক সংঘাতের কারণে নিউইয়র্ক পুলিশ শহরজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।