মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গঠিত ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশনের উপদেষ্টা বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেছেন একমাত্র মুসলিম নারী সদস্য সামিরা মুনশি। তিনি হোয়াইট হাউসের একটি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এ পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পদত্যাগপত্রে সামিরা মুনশি জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউস কর্তৃক ক্যাথলিক কমিশনার ক্যারি প্রেজিন বোলারকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সামিরা মুনশি দাবি করেন, গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ বলে সমালোচনা করা এবং জায়নবাদবিরোধী অবস্থান নেওয়ার কারণেই ক্যারি প্রেজিন বোলারকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই ধরনের মত প্রকাশের কারণে ক্যারিকে ‘অ্যান্টিসেমিটিক’ বা ইহুদিবিদ্বেষী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে কমিশনের একটি বৈঠকে ক্যারি প্রেজিন বোলার বলেছিলেন যে, ক্যাথলিক ধর্মবিশ্বাস এবং জায়নিজম একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছিল।
২০২৫ সালের মে মাসে সরাসরি প্রেসিডেন্টের কাছে প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এই ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন গঠন করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে গুরুত্বপূর্ণ এই কমিশনে এখন পর্যন্ত কোনো মুসলিমকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
সামিরা মুনশি পদত্যাগ করলেও উপদেষ্টা হিসেবে এখনো ইসমাইল রোয়ের এবং ইসলামি পণ্ডিত শেখ হামজা ইউসুফ এই কমিশনে যুক্ত রয়েছেন।
ক্যারির অপসারণ এবং সামিরার পদত্যাগের ফলে কমিশনের অভ্যন্তরীণ নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।