যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত ও দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন আরেক নারী। ১৯ বছর বয়সে মডেলিং করার সময় এপস্টেইনের পাম বিচের বিলাসবহুল বাড়িতে কীভাবে তিনি অজ্ঞান ও ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন, তা প্রথমবারের মতো বিবিসি নিউজনাইটের কাছে প্রকাশ করেছেন তিনি। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বিবিসি ওই নারীকে 'নিকি' ছদ্মনামে আখ্যায়িত করেছে।
নিকি জানান, এপস্টেইনকে মেসেজ (মালিশ) করে দেওয়ার পর তাকে এক গ্লাস পানি খেতে দেওয়া হয়েছিল। সেই পানি পানের পর অন্তত ১২ ঘণ্টা তিনি সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট ছিলেন। জ্ঞান ফেরার পর তিনি শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করেন এবং ধর্ষণের আলামত বুঝতে পারেন, যদিও ওই সময়ের কোনো স্মৃতিই তার মনে নেই।
বিবিসি নিউজনাইটকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে নিকি সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। তিনি জানান, প্রথমবার পরিচয়ের পর এপস্টেইন তাকে শরীরের ওপরের অংশের কাপড় খুলতে বলেছিলেন। নিকি ভেবেছিলেন, এটি হয়তো কোনো ধনী বৃদ্ধের নিছক বিকৃত শখ। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পর দ্বিতীয় সাক্ষাতে পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
এপস্টেইন তার প্যান্টের বোতাম খোলার চেষ্টা করলে নিকি নিজেকে বাঁচাতে ঋতুস্রাবের (পিরিয়ড) মিথ্যা অজুহাত দেন। এতেও নিরস্ত না হয়ে এপস্টেইন তাকে যৌনতায় বাধ্য করার চেষ্টা করেন এবং তার সামনেই হস্তমৈথুন করেন। নিকি তড়িঘড়ি করে উঠে বাথরুমে গিয়ে হাত ধুয়ে আসেন। ফিরে আসার পর এপস্টেইন তাকে একটু পানি খেতে দেন। ওই পানি খাওয়ার পরই তিনি অজ্ঞান হয়ে যান।
জ্ঞান ফেরার পর নিকি বুঝতে পারেন তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে। সেদিন চলে আসার আগে এপস্টেইন আবারও তাকে মেসেজ করতে বলেন। নিকি পুনরায় ঋতুস্রাবের কথা বললে এপস্টেইন বলে ওঠেন, "তোমাকে আমার কাছে মিথ্যা বলতে হবে না।" নিকি বুঝতে পারেন, অজ্ঞান অবস্থায় ধর্ষণ করার কারণেই এপস্টেইন জেনে গেছেন যে তার ঋতুস্রাব চলছিল না।
এই ভয়াবহ ঘটনার পর নিকি চরম মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছেন, এমনকি আত্মহত্যার চিন্তাও তার মাথায় এসেছিল। অন্যান্য ভুক্তভোগীদের গল্প শুনে তিনি এখন মুখ খোলার সাহস পেয়েছেন। নিকি এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের কাছে এপস্টেইন সংক্রান্ত বাকি প্রায় ২০ লাখ গোপন নথি 'সঠিক, সৎ ও নৈতিকভাবে' প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া 'এপস্টেইন ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট'-এর তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, অপরাধীর নামে আইনের নামকরণ তাকে আরও মহিমান্বিত করার সামিল। এর নাম 'সারভাইভারস অ্যাক্ট' হওয়া উচিত ছিল। নিকি আক্ষেপ করে বলেন, ‘রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য আমাদের মতো ভুক্তভোগীদের এখন কেবল ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সত্যিই জঘন্য। প্রতিনিয়ত সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নামটির উপস্থিতি আমাদের এই ট্রমা থেকে সুস্থ হতে দিচ্ছে না।’