গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর একযোগে হামলা শুরু করে, তখন সারা বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রে ছিল দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের ফাঁস হওয়া ফাইল। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় সেই বিস্ফোরক কেলেঙ্কারির খবরগুলো যেন ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। অনেক বিশ্লেষক ও রাজনীতিবিদের মতে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট ও যৌন কেলেঙ্কারি থেকে বিশ্ববাসীর নজর সরাতেই এই যুদ্ধের সূচনা করা হয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগের ফাইলগুলো প্রকাশের পর ব্রিটেনের সাবেক রাজপরিবার সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসন গ্রেপ্তার হয়েছেন, যা কিয়ার স্টারমার সরকারকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। এছাড়া ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকও ব্যাপক তদন্তের মুখে রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, এপস্টেইন মূলত ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের একজন সক্রিয় গুপ্তচর ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও এর প্রভাব পড়েছে মারাত্মক। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে ইতোমধ্যে রুদ্ধদ্বার কক্ষে সাক্ষ্য দিতে হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিককেও কংগ্রেসের সামনে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য টমাস ম্যাসি, যিনি এপস্টেইন ফাইল প্রকাশের অন্যতম প্রবক্তা, গত রোববার (১ মার্চ) সরাসরি বলেন, ‘পৃথিবীর অন্য প্রান্তে একটি দেশে বোমা বর্ষণ করে এপস্টেইন ফাইলগুলো মুছে ফেলা যাবে না।’ তিনি এই যুদ্ধের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
আটলাস গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিসের বিশ্লেষক ও সাবেক ইসরায়েলি কূটনীতিক শায়েল বেন-এফ্রাইম আল জাজিরাকে বলেন, ‘এই আক্রমণের পেছনে কৌশলগত কোনো যুক্তির চেয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মারপ্যাঁচই বেশি। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে, অর্থনীতিও খারাপের দিকে যাচ্ছে। তার এখন মানুষের মনযোগ ঘোরানোর জন্য একটি যুদ্ধের প্রয়োজন ছিল।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘গুগল সার্চ ট্রেন্ড লক্ষ্য করলেই দেখা যায়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ‘এপস্টেইন ফাইল’ নিয়ে সার্চিং এক ধাক্কায় অনেক কমে গেছে। অর্থাৎ কংগ্রেস ও মিডিয়ার সময় নষ্ট করার এই কৌশল অন্তত সাময়িকভাবে সফল হয়েছে।’
বেন-এফ্রাইমের মতে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও আগামী জুনের সম্ভাব্য নির্বাচনের আগে নিজের জনপ্রিয়তা বাড়াতে চাইছেন। গাজায় সফল হতে না পারায় তিনি ইরানকে একটি ‘শক্তিশালী শত্রু’ হিসেবে দাঁড় করিয়ে নিজের হিরোইজম প্রমাণের চেষ্টা করছেন।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের ধারণা, এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়া ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের রক্ষা করতেই মধ্যপ্রাচ্যের এই ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সূচনা করা হয়েছে।
মার্কিন কারাগারে নিহত এপস্টেইন নথিতে বিল গেটস
এপস্টেইন বিচ হাউস: অগাধ সম্পদের আড়ালে এক নারকীয় সাম্রাজ্য
