এআইয়ের পরামর্শে মাকে হত্যা

যুক্তরাজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্ল্যাটফর্মের পরামর্শ নিয়ে নিজের জন্মদাত্রী মাকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে এক কিশোরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ১৮ বছর বয়সী ঘাতক কিশোর ট্রিস্টান রবার্ট গত বছরের অক্টোবরে উত্তর ওয়েলসে তার মা অ্যাঞ্জেলা শেলিসকে (৪৫) একটি ভারী স্লেজহ্যামার দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন।

গত বুধবার (২৫ মার্চ) উত্তর ওয়েলসের মোল্ড ক্রাউন কোর্ট এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়েছে, রবার্টকে ন্যূনতম ২২ বছর ৬ মাস কারাগারে থাকতে হবে।

আদালতের শুনানিতে উঠে আসে এক ভয়াবহ তথ্য। ট্রিস্টান রবার্ট এই হত্যাকাণ্ডের নিখুঁত পরিকল্পনা সাজাতে ‘ডিপসিক’ (DeepSeek) নামক একটি এআই সার্চ ইঞ্জিনের সহায়তা নিয়েছিলেন। তদন্তে দেখা যায়, সে এআই-এর কাছে জানতে চেয়েছিল হত্যাকাণ্ডের জন্য হাতুড়ি না কি ছুরি, কোনটি বেশি কার্যকর?

প্রাথমিক পর্যায়ে এআই উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানালেও, রবার্ট নিজেকে একজন ‘অপরাধবিষয়ক লেখক’ হিসেবে দাবি করে এআই-কে বিভ্রান্ত করে। এরপর প্ল্যাটফর্মটি তাকে স্লেজহ্যামারের সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়। এমনকি হত্যার পর রক্ত ও দাগ পরিষ্কারের উপায় সম্পর্কেও সে এআই-এর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যান্ড্রু থমাস জানান, এই হত্যাকাণ্ড ছিল পুরোপুরি পূর্বপরিকল্পিত। রবার্ট প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে হামলার প্রস্তুতি নেন এবং হামলার পুরো সাড়ে চার ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহ একটি ডিক্টাফোনে রেকর্ড করে রাখেন। অডিও রেকর্ডিংটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে আদালত কক্ষে তা পুরোপুরি বাজানো সম্ভব হয়নি।

তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, ঘটনার রাতে প্রথমে বাড়িতে মায়ের ওপর হামলা চালায় রটার্ট। ভোররাতে চিকিৎসার নাম করে মাকে বাইরে নিয়ে যান তিনি। এরপর একটি নির্জন প্রকৃতি সংরক্ষণাগারে নিয়ে গিয়ে স্লেজহ্যামার দিয়ে মায়ের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরে মরদেহটি ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে রাখেন তিনি।

অটিজম ও এডিএইচডিতে আক্রান্ত ট্রিস্টানকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন তার মা অ্যাঞ্জেলা। তবে ছেলের আচরণে তিনি নিজেও শঙ্কিত ছিলেন। হত্যার কয়েকদিন আগে তিনি নিজের ফোনে একটি নোট লিখেছিলেন- ‘কেন? সে কি আমাকে বা নিজেকে আঘাত করতে চায়?’ শেষ পর্যন্ত মায়ের সেই আশঙ্কাই করুণ বাস্তবতায় রূপ নিল।