যুক্তরাজ্যের সদ্য পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মধ্যপ্রাচ্য নীতি, বিশেষ করে গাজা যুদ্ধকে ঘিরে তার সরকারের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় প্রকাশিত এক মতামতধর্মী নিবন্ধে স্টারমারের বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তুলে তার উত্তরসূরির কাছে ভিন্ন নীতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিবন্ধে বলা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে একটি রেডিও সাক্ষাৎকারে স্টারমার বলেছিলেন, ইসরায়েলের পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার অধিকার রয়েছে। লেখকের দাবি, এই অবস্থান পরবর্তী সময়ে তার সরকারের নীতিতেও প্রতিফলিত হয়েছে। অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতায় আসার পর তার সরকার ইসরায়েলের প্রতি সামরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখে। যদিও ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্য কিছু অস্ত্র রপ্তানি লাইসেন্স স্থগিতের ঘোষণা দেয়, তবুও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহ বন্ধ করা হয়নি বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও দাবি করা হয়েছে, সাইপ্রাসে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের আকরোতিরি ঘাঁটির কার্যক্রম গাজা-সংক্রান্ত সামরিক তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের উচিত ছিল রাশিয়ার ক্ষেত্রে নেওয়া পদক্ষেপের মতো ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও কঠোর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। সীমিত নিষেধাজ্ঞাকে তিনি অপর্যাপ্ত বলে উল্লেখ করেছেন।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে লেখক যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ব্রিটিশ সম্পৃক্ততা তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন জন-তদন্তের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তবে সরকার এর প্রয়োজন নেই বলে জানিয়ে প্রস্তাবটি গ্রহণ করেনি। পরে তার উদ্যোগে একটি বেসরকারি ট্রাইব্যুনাল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হয় বলে নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচিত অ্যান্ডি বার্নহামের প্রতি আহ্বান জানিয়ে লেখক বলেছেন, নতুন নেতৃত্ব চাইলে ইসরায়েলের কাছে সব ধরনের অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করা, ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং গাজা নীতির পূর্ণাঙ্গ পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে পূর্ববর্তী সরকারের অবস্থান থেকে সরে আসতে পারে।
নিবন্ধে স্টারমারের অভ্যন্তরীণ নীতিরও সমালোচনা করা হয়েছে। লেখকের অভিযোগ, তিনি সামরিক ব্যয় বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিলেও দারিদ্র্য, গৃহহীনতা, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার সংকট এবং কল্যাণমূলক ব্যয় সংকোচনের মতো বিষয়গুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারেননি। পাশাপাশি সম্পদের পুনর্বণ্টন, সম্পদ কর, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি, রেল, ডাক, পানি ও স্বাস্থ্যসেবায় বেসরকারিকরণের অবসানের পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে।
সূত্র:আলজাজিরা
ভারতে ভোটার তালিকায় বাদ পড়াদের কল্যাণ সুবিধা হারানোর শঙ্কা
পাকিস্তানের কাশ্মীর ভারতের অংশ: ভারতীয় সেনাপ্রধান
তুরস্কের রাস্তা থেকে হঠাৎ ১২ লাখ কুকুর গায়েব, ঘটনা কী