ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হয় মারা গেছেন, না হয় অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, বর্তমানে ইরানে কোনো কার্যকর নেতৃত্ব নেই এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামিতে ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ প্রায়োরিটি’ ফোরামের সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে ট্রাম্প এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প তার ভাষণে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট সামরিক পদক্ষেপ ইরানের শাসন কাঠামো ও প্রতিরক্ষা ক্ষমতাকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তাদের শীর্ষ নেতারা এখন মৃত। সাবেক সর্বোচ্চ নেতা (আয়াতুল্লাহ খামেনি) আর নেই, আর তার ছেলে (মোজতবা খামেনি) হয় মারা গেছেন, নয়তো খুবই খারাপ অবস্থায় আছেন। সংক্ষেপে বললে, এই মুহূর্তে ইরানে কোনো নেতা নেই।’
ইরানের সামরিক শক্তি নিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, দেশটির নৌবাহিনী এখন পারস্য উপসাগরের নিচে ত তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘তাদের বিমানবাহিনী সম্পূর্ণ মৃত, যুদ্ধবিমানগুলো ধ্বংস এবং সামরিক যোগাযোগের সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানাগুলো এমনভাবে ধ্বংস করছি যা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প বলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনেই মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন ইরানের দীর্ঘকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সেই হামলায় খামেনির পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হলেও মোজতবা খামেনি আহত হন। পরে আহত অবস্থাতেই তাকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয়।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মোজতবার অবস্থা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করলেও ইরানি সূত্রগুলো দাবি করেছে যে, তিনি পায়ে আঘাত পেয়েছেন যা প্রাণঘাতী নয়। গত ১২ মার্চ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ আমন্ত্রণে মোজতবা খামেনিকে একটি রুশ সামরিক বিমানে করে মস্কো নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি মস্কোর একটি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র: এএফপি