৩৮ বছর ধরে ট্রাম্পের নিশানায় ইরানের খারগ দ্বীপ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের ‘খারগ দ্বীপ’ (Kharg Island) দখলের পরিকল্পনা বা ইচ্ছা নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই কৌশলগত দ্বীপটি দখলের যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তার শিকড় প্রোথিত আছে প্রায় চার দশক আগে। ১৯৮৮ সাল থেকে ২০২৬ বারবার ট্রাম্পের বক্তব্যে এই দ্বীপটি দখলের হুমকি উঠে এসেছে।

১৯৮৮ সাল: প্রথমবার নিশানায় খারগ

প্রেসিডেন্ট হওয়ার বহুকাল আগে ১৯৮৮ সালে ‘দ্য গার্ডিয়ান’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি হলে খারগ দ্বীপে হানা দিতাম এবং এটি দখল করতাম। ইরান ইরাককেও হারাতে পারে না, অথচ তারা যুক্তরাষ্ট্রকে নাজেহাল করে। বিশ্বের উচিত তাদের উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়া।’

১৩ মার্চ ২০২৬: বোমা হামলা ও হুঁশিয়ারি

ফক্স নিউজ রেডিওতে তাকে ১৯৮৮ সালের সেই মন্তব্যের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, এটি এখন তার তালিকার খুব উপরে নেই, তবে তিনি ‘কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মন পরিবর্তন করতে পারেন।’ ওই দিনই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি দাবি করেন, তার নির্দেশে খারগ দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে বিমান হামলা চালিয়ে সেগুলো ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দ্বীপের তেল অবকাঠামো এখনই ধ্বংস না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি, তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে বাধা সৃষ্টি করে তবে তিনি তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবেন।

৩০ মার্চ ২০২৬: ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে নতুন মন্তব্য

আজ সোমবার প্রকাশিত ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের হাতে অনেকগুলো বিকল্প আছে। আমরা হয়তো খারগ দ্বীপ দখল করব, আবার হয়তো করব না। তবে এটি দখল করার মানে হলো আমাদের সেখানে দীর্ঘ সময়ের জন্য অবস্থান করতে হতে পারে।’

ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই দ্বীপটি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প তার চার দশক পুরনো স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথেই হাঁটছেন।