৭ বছরে ৫ প্রধানমন্ত্রী, ব্রিটেন কি তবে অশাসনযোগ্য

আপডেট : ১৭ মে ২০২৬, ১২:১০ পিএম

ব্রিটিশ রাজনীতির বর্তমান অস্থিরতাকে একটি অদ্ভুত পরিসংখ্যান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় বিগত সাত বছরে ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রী বদল হয়েছেন পাঁচজন, কিন্তু সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে রয়ে গেছে কেবল ‘ল্যারি’ নামের বিড়ালটি। ডেভিড ক্যামেরন থেকে শুরু করে থেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস, রিশি সুনাক এবং বর্তমানের কিয়ার স্টারমার কারোরই নেতৃত্ব দেশটিতে স্থিতিশীলতা আনতে পারেনি। এই টালমাটাল পরিস্থিতি দেখে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ব্রিটেন শাসন করা কি অসম্ভব হয়ে পড়েছে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষক হানাহ হোয়াইট মনে করেন, ব্রিটেন অশাসনযোগ্য নয়, বরং রাজনৈতিক দলগুলো পরিস্থিতির চাপে অত্যন্ত দুর্বল নেতৃত্ব উপহার দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও হোয়াটসঅ্যাপের এই যুগে এমপিদের বিদ্রোহ মুহূর্তের মধ্যে সংগঠিত হয়ে যাচ্ছে। আগে যেখানে একটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় পাওয়া যেত, এখন জনমতের চাপে ১০ দিনও সময় পাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রীরা। সাবেক পরামর্শক থিও বার্ট্রাম বলছেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে প্রধানমন্ত্রীর হাতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সময় নেই।’

পাশাপাশি ডাউনিং স্ট্রিট ও সিভিল সার্ভিসের মধ্যে তৈরি হওয়া গভীর অবিশ্বাস শাসনব্যবস্থাকে আরও পঙ্গু করে দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নিজেই স্বীকার করেছেন যে, সরকারি ‘লিভার’ টানলে সেটি প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করে না; নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মাঝে বিস্তর ব্যবধান রয়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে মন্ত্রীরা আমলাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন, আবার আমলারাও মন্ত্রীদের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন মেজর মনে করেন, বর্তমান নেতারা জনগণের কাছে ‘কঠিন সত্য’ বলতে ভয় পান। রাজস্বের বাস্তব অবস্থা বা প্রতিরক্ষার চাহিদার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে স্পষ্ট কথা না বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা নেতৃত্বকে আরও সংকটে ফেলছে। ইতিহাসবিদ স্যার অ্যান্থনি সেলডন মনে করেন, সাম্প্রতিক সময়ের প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক দক্ষতার অভাব এবং অভিজ্ঞদের থেকে পরামর্শ নেওয়ার বিনয়ের ঘাটতি ছিল স্পষ্ট।

ব্রিটেন যদি এই অস্থিরতার চক্র থেকে বের হতে চায়, তবে নেতাদের কেবল ক্ষমতায় টিকে থাকার চিন্তা বাদ দিয়ে দেশের আসল সমস্যাগুলো নিয়ে জনগণের সাথে সৎ ও সাহসের সাথে কথা বলতে হবে। অন্যথায়, ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে কেবল প্রধানমন্ত্রীর নামফলকই বদলাবে, ভাগ্যের চাকা ঘুরবে না ব্রিটিশদের। সূত্র: বিবিসি

NB/SN
আরও পড়ুন