যুদ্ধ শেষ হলেই তেলের দামে 'নাটকীয় পরিবর্তন' হবে: ট্রাম্প

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটলেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এক ধরনের বড় ধস নামবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষায়, যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত হলে তেলের দাম এমনভাবে নেমে যাবে যা বাজারে 'নাটকীয় পরিবর্তন' সৃষ্টি করবে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বিদ্যুৎ খাতেও, যেখানে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে তিনি দাবি করেন।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জ্বালানি বাজারকে এই সংঘাতের কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক প্রভাব হিসেবে তুলে ধরেন এবং বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সরবরাহ শৃঙ্খল স্বস্তি পাবে, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত নিচের দিকে নামবে। তার মতে, বর্তমান অস্থিরতা মূলত ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ফল, যা কমে এলে জ্বালানি খাতেই প্রথম বড় পরিবর্তন দেখা যাবে।

এদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তিনি আরও বলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তবে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করবে এবং তিনি এমন পরিস্থিতিকে 'বিশ্ব ধ্বংসের' সমতুল্য বলে বর্ণনা করেন।

ট্রাম্প ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তিকে 'সবচেয়ে খারাপ চুক্তি' হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেন, ওই চুক্তি ইরানকে সীমিত সময়ের মধ্যে পারমাণবিক সক্ষমতার দিকে এগোনোর সুযোগ করে দিয়েছিল। তার বক্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দেন, পূর্ববর্তী কূটনৈতিক কাঠামো কার্যকরভাবে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা না হলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারত। তার দাবি অনুযায়ী, সেই সময় ইরান ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারত, যদি তারা পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করত।

অন্যদিকে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং অস্ত্র উন্নয়ন কোনোভাবেই তাদের উদ্দেশ্য নয়। সূত্র: বিবিসি