যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের ১০০ দিন: আলোচনা কোন পর্যায়ে?

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৬, ১২:২৩ পিএম

ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর আজ ১০০ দিন পূর্ণ হলো। যদিও গত এপ্রিল মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, তবুও একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তি এখনও অধরা রয়ে গেছে। ফলে উভয় পক্ষই এখন এক অস্বস্তিকর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে— যেখানে তারা পুরোপুরি যুদ্ধেও নেই, আবার শান্তিতেও নেই।

উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও এখনো পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের দুটি ড্রোন ভূপাতিত করার ঘোষণা দিয়েছে, অন্যদিকে গত শনিবার ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে মার্কিন হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে আঘাত হেনেছে ইরান।

এই চলমান শত্রুতা ও সহিংসতার মধ্যেই একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি কার্যকরের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই সম্ভাব্য চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো চলমান যুদ্ধ বন্ধ করা, তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি ভবিষ্যতের আলোচনার জন্য তোলা থাকবে। এই আলোচনার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছেন এবং তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কাছে একটি "গুরুত্বপূর্ণ বার্তা" পৌঁছে দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এই চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। গত বুধবার তিনি বলেছেন যে, চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে। তবে একই দিনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বেশ সতর্ক সুর মিলিয়ে বলেছেন, যোগাযোগের মাধ্যমগুলো খোলা থাকলেও এখন পর্যন্ত চুক্তির বিষয়ে "কোনো দৃশ্যমান বা বাস্তব অগ্রগতি" হয়নি।

সমঝোতার ক্ষেত্রে প্রধান অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে— লেবাননসহ সমস্ত অঞ্চলে শত্রুতা ও লড়াইয়ের সম্পূর্ণ অবসান ঘটানো। এর পাশাপাশি ইরানের পক্ষ থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে— অবরুদ্ধ থাকা শত শত কোটি ডলারের তেল রাজস্বের ওপর প্রবেশাধিকার দেওয়া, অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা, মার্কিন বন্দর অবরোধ তুলে নেওয়া এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। সূত্র: আল জাজিরা

YA
আরও পড়ুন