সিএনএন বিশ্লেষণ

নিজের পাতা ফাঁদে আটকা ট্রাম্প, সম্মান বাঁচাতে ইরানের সঙ্গে ‘ডিল’ খুঁজছেন

যদি কেবল তর্জন-গর্জন বা কথার লড়াইয়ে যুদ্ধ জেতা যেত, তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান মিশন অনেক আগেই সফল হতে পারত। টানা ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি এখন অনির্দিষ্টকালের জন্য দীর্ঘায়িত করা হয়েছে। তবে পর্দার আড়ালের খবর হলো- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন নিজের তৈরি ভূ-রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ ফাঁদে আটকা পড়েছেন। বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশেষ বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে।

সিএনএনের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো রাজনৈতিক শক্তি ট্রাম্পের হাতে আর অবশিষ্ট নেই। যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় দাম ৪.৫০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা সাধারণ মার্কিনিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এর ফলে ট্রাম্পের জনসমর্থন আশঙ্কাজনকভাবে কমে ৩০ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে। অভ্যন্তরীণ এই জনরোষ সামাল দিতে ট্রাম্প এখন যেকোনো উপায়ে যুদ্ধের সম্মানজনক সমাপ্তি চাইছেন।

সামরিকভাবে ইরানকে পঙ্গু করার দাবি করা হলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’র ওপর তেহরানের প্রভাব ট্রাম্পকে কোণঠাসা করে ফেলেছে। ইরান নতি স্বীকার করতে অস্বীকার করায় এবং নৌপথটি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে যে মন্দার ছায়া পড়েছে, তার দায় এখন ট্রাম্প প্রশাসনের কাঁধেই বর্তাচ্ছে।

বর্তমানে পাকিস্তান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ‘এক পৃষ্ঠার স্মারকলিপি’ নিয়ে আলোচনা চলছে। এই নথির মাধ্যমে সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের জন্য ৩০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন- ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক প্রক্সি যুদ্ধের মতো দীর্ঘ ৫০ বছরের জটিল সমস্যা কি মাত্র এক পৃষ্ঠার একটি নথিতে সমাধান করা সম্ভব? বিশেষ করে যেখানে ইরান তাদের অর্থনীতি বাঁচাতে সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে অনড়।

ওয়াশিংটনের অন্দরমহলে এই যুদ্ধ নিয়ে চরম সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করা গেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হয়ে গেছে, আবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামক নতুন অভিযানের কথা বলে সেটিও স্থগিত করেছেন। এই অস্পষ্টতা প্রমাণ করে যে, ইরানকে নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এখন কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না।

যদিও ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন যে ইরান সব শর্তে রাজি হয়ে গেছে এবং একটি বড় ‘চুক্তি’ হতে চলেছে, তেহরান কিন্তু এখনো তার উল্টো সুরেই কথা বলছে। তেলের দাম এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেতে ট্রাম্পের জন্য এখন একটি সফল ‘ডিল’ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।