ইরানের সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি তার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে (Air Defense) পূর্ণ মাত্রায় সক্রিয় করেছে। শুক্রবার (৮ মে) সকালে আমিরাত উপকূলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর কাছে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পর এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তবে উপকূলে উত্তেজনা থাকলেও আমিরাতের মূল ভূখণ্ডে এখনো কোনো মিসাইল বা ড্রোন আঘাত হানেনি। দুবাইতে কোনো সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজেনি। আমিরাত সরকার সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, গতকাল হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশকালে ইরানের একটি তেল ট্যাঙ্কার ও একটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করে মার্কিন নৌবাহিনী। এর জবাবে ইরান চাবাহার বন্দরের কাছে মার্কিন নৌবহর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
এছাড়া ইরান আরও অভিযোগ করেছে যে, মার্কিন সেনারা পারস্য উপসাগরের কেশম দ্বীপ এবং ইরানের মূল ভূখণ্ডের খামির ও সিরিক বন্দরে বিমান হামলা চালিয়েছে। তেহরানের দাবি, তাদের পাল্টা হামলায় মার্কিন নৌবাহিনীর ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী এই উত্তেজনার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নিয়মিত টহলরত মার্কিন জাহাজের খুব কাছ দিয়ে উসকানিমূলকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল ইরান, যার ফলে আত্মরক্ষার্থে তারা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করেছে। এই উত্তাপ যাতে দেশটির ভেতরে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্যই সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের প্রতিরক্ষা ব্যুহ জোরদার করেছে। সূত্র: আলজাজিরা এমটিআই
ইরানের একাধিক শহরে তীব্র বিস্ফোরণ
পাল্টাপাল্টি হামলার পরও ট্রাম্প বললেন 'যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর'
হরমুজ প্রণালিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলা