বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জে পাঁচ বছর আগে সংঘটিত একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হলো যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে। সম্পত্তির লোভে নিজের চাচাকে গুলি করে হত্যার দায়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক গ্যানেট রোজারিওকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) মার্কিন বিচার বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ঐতিহাসিক রায়ের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, সাজাপ্রাপ্ত গ্যানেট রোজারিও এবং ভুক্তভোগী মাইকেল রোজারিও-উভয়েই নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। ২০২১ সালে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। সেই বছরের জুন মাসে তারা দুজনই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জে (সিরাজদিখান উপজেলা) পৈতৃক বাড়িতে যান।
২০২১ সালের ১১ জুন গ্যানেট রোজারিও বাড়ির বাইরে ধূমপান করছিলেন। পাশে তার চাচা মাইকেল রোজারিওর শোবার ঘর ছিল। গ্যানেট দাবি করেন, জানালা দিয়ে তিনি শুনতে পান মাইকেল তাকে নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অপমানজনক মন্তব্য করছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গ্যানেট নিজের ঘর থেকে একটি শটগান নিয়ে আসেন এবং জানালার ফাঁক দিয়ে চাচাকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। ঘটনাস্থলেই মাইকেল রোজারিও মারা যান।
হত্যাকাণ্ডের পর ২০২৩ সালের জুলাই মাসে গ্যানেট কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। তবে মার্কিন ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (FBI) এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে। এফবিআই-এর লস অ্যাঞ্জেলেস এবং নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিস বাংলাদেশে নিযুক্ত এফবিআই কর্মকর্তাদের সহায়তায় নিবিড় তদন্ত চালিয়ে গ্যানেটের অপরাধ প্রমাণ করে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট দাখিল করা হয়।
এই একই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশেও মামলা হয়েছিল। গত বছরের ১০ মার্চ মুন্সিগঞ্জ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালত গ্যানেট রোজারিওকে তার অনুপস্থিতিতেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছিলেন। তবে মার্কিন নাগরিক হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আইনি বিধি অনুযায়ী সেখানেও তার বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। গ্যানেট আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করায় তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালত।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, সীমানার বাইরে অপরাধ করেও মার্কিন নাগরিকরা যাতে পার না পায়, এই রায় তার এক বড় দৃষ্টান্ত।