হোয়াইট হাউজের বাইরে নিহত বন্দুকধারী কে এই নাসির বেস্ট 

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের বাইরে শনিবার (২৩ মে) সিক্রেট সার্ভিসের গুলিতে নিহত হওয়া যুবক নাসির বেস্ট (২১) সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। আদালতের নথি এবং তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই যুবক দীর্ঘদিন ধরেই সিক্রেট সার্ভিসের ‘নজরদারিতে’ ছিলেন। একাধিকবার হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা বলয় ভাঙার চেষ্টা এবং মানসিক ভারসাম্যহীনতার ইতিহাস রয়েছে তার।

সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাসির বেস্টকে এর আগে জোরপূর্বক মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। আদালতের হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৬ জুন হোয়াইট হাউস কমপ্লেক্সের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে গাড়ি নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে আটক করে চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়। এর মাত্র কয়েক দিন পর, ১০ জুলাই তিনি আবারও একটি সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করেন। সে সময় তাকে ঘিরে ধরা হলে তিনি নিজেকে ‘যিশুখ্রিস্ট’ দাবি করেন এবং স্বেচ্ছায় গ্রেপ্তার হতে চান।

তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, নাসির বেস্টের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি সেখানে নিজেকে ‘ঈশ্বরের পুত্র’ দাবি করার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরাসরি সহিংসতার হুমকি দিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন প্রবেশপথ দিয়ে কীভাবে ভেতরে ঢোকা যায়, তা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে তাকে ওই এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে, যা সিক্রেট সার্ভিসের নথিতে তাকে ‘পরিচিত মুখ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।

শনিবারের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সিক্রেট সার্ভিস জানায়, নাসির বেস্ট একটি নিরাপত্তা চৌকির দিকে এগিয়ে এসে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে পাল্টা গুলিতে তিনি নিহত হন। এই ঘটনায় এক পথচারীও আহত হয়েছেন। ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসেই অবস্থান করছিলেন, তবে তিনি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও অক্ষত রয়েছেন। মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছানো এবং তার পূর্বের ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের হামলা চালানোয় যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।