দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন শহরে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে সরকার। রাস্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কায় অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। অভিবাসীবিরোধী কয়েকটি সংগঠন মঙ্গলবারের মধ্যে অনথিভুক্ত বিদেশিদের দেশ ছাড়ার আহ্বান জানালেও সরকার এ ধরনের ‘সময়সীমা’কে ভিত্তিহীন ও বেআইনি বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
সোমবার (২৯ জুন) প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার থাকলেও কাউকে ভয়ভীতি দেখানো, ভাঙচুর বা সহিংসতায় জড়ানোর সুযোগ নেই। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া সরাসরি স্বেচ্ছাচারিতা বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তাদের দাবি, দেশে অনথিভুক্ত বিদেশিদের উপস্থিতির কারণে কর্মসংস্থান ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং এ বিষয়ে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ শুরুতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিলেও পরে কিছু ব্যক্তি মিছিল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। ইয়োভিল এলাকায় একটি স্থানে আগুন লাগানোর ঘটনাও ঘটে, পরে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে অভিযান চালিয়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে।
চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ছোট পরিসরে শুরু হওয়া অভিবাসীবিরোধী কর্মসূচি সাম্প্রতিক সময়ে বড় আকার ধারণ করেছে। এ সময় বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনায় অন্তত দুইজন মোজাম্বিকের নাগরিক, একজন ইথিওপিয়ার নাগরিক এবং একজন মালাউইয়ের নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
যদিও আন্দোলনকারীরা অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা বলছে, বাস্তবে বৈধ কাগজপত্র থাকা বিদেশিরাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। নিরাপত্তার খোঁজে হাজারো বিদেশি বিভিন্ন দেশের কনস্যুলেট ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। অনেকেই হামলার আশঙ্কা বা জরিমানার ভয়ে চাকরি হারানো কিংবা বাসা ছাড়তে বাধ্য হওয়ার অভিযোগ করেছেন। ইতোমধ্যে বহু বিদেশি নিজ উদ্যোগে অথবা নিজ নিজ দেশের সহায়তায় দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে গেছেন। কয়েকটি আফ্রিকান দেশ তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বিমান ও বাসের ব্যবস্থা করেছে।
আগামী নভেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে অভিবাসন ইস্যুতে রাজনৈতিক বক্তব্যও তীব্র হচ্ছে। কিছু রাজনৈতিক দল শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের আহ্বান জানালেও কয়েকজন রাজনীতিক ক্রমেই অভিবাসীবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় অতীতেও বিদেশিবিরোধী সহিংসতার নজির রয়েছে। ২০০৮ সালের দাঙ্গায় ৬২ জন নিহত হন। এরপর ২০১৫, ২০১৬ এবং ২০১৯ সালেও বিদেশি নাগরিক ও তাদের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে।