যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীর প্রাক্কালে দেশটির ইতিহাসে প্রথম মার্কিন বংশোদ্ভূত পোপ লিও চতুর্দশকে লিবার্টি মেডেল প্রদান করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে শান্তি, স্বাধীনতা ও জাতীয় ঐক্যের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে উপস্থিত সবার দৃষ্টি কাড়েন তিনি।
শুক্রবার (৩ জুলাই) ফিলাডেলফিয়ার ন্যাশনাল কনস্টিটিউশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন পোপ লিও। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ইন্ডিপেনডেন্স হলের ঠিক সামনেই আয়োজন করা হয় এই অনুষ্ঠান। সেখানে বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
সম্মাননা গ্রহণ করে পোপ বলেন, ভিন্নমতকে সম্মান করা এবং মতপার্থক্যের মধ্যেও শান্তি ও পুনর্মিলনের পথ খুঁজে বের করা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অভিবাসন গ্রহণের ঐতিহ্যেরও প্রশংসা করেন। তার ভাষায়, বিভিন্ন সময়ে নতুন অভিবাসীদের স্বাগত জানিয়েই দেশটি নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলেছে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের বিখ্যাত অংশ উদ্ধৃত করেন। তিনি বলেন, মানুষের স্রষ্টাপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার রয়েছে, যার মধ্যে জীবন, স্বাধীনতা এবং সুখ অন্বেষণের অধিকার অন্যতম। এই মূল্যবোধ যেন শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, গোটা বিশ্বে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। বক্তব্যের শেষে বলেন, ‘ঈশ্বর আমেরিকাকে আশীর্বাদ করুন।’
ন্যাশনাল কনস্টিটিউশন সেন্টারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধর্মীয় স্বাধীনতা, বিবেকের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই পোপ লিওকে এ বছরের লিবার্টি মেডেল দেওয়া হয়েছে।
সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী ভিন্স স্ট্যাঙ্গো বলেন, ফিলাডেলফিয়ার ইতিহাস, যুক্তরাষ্ট্রের পরিচয় এবং বৈশ্বিক মূল্যবোধ, এই তিনটির মধ্যে একটি প্রতীকী সংযোগ তৈরি করতেই প্রথম মার্কিন পোপকে সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত এপ্রিলেই ভ্যাটিকানে এক ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে তার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পদকটি তুলে দেওয়া হয়।
শিকাগোতে জন্ম হলেও পোপ লিওর সঙ্গে ফিলাডেলফিয়ারও বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি কাছাকাছি অবস্থিত ভিলানোভা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। সে কারণেও শহরটিতে তার প্রতি আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্থানীয় ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের মধ্যেও ছিল উৎসাহ। সাউথ ফিলাডেলফিয়ার সেন্ট পল প্যারিশের রেভারেন্ড পল গালেত্তো বলেন, পোপ এমন একজন নেতা, যিনি মানুষের সঙ্গে সহজে সংযোগ স্থাপন করতে পারেন এবং স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলার নৈতিক অবস্থানও তার রয়েছে।
যদিও সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পোপ লিওর কিছু নীতিগত মতপার্থক্য আলোচনায় এসেছে, তবু আয়োজকদের দাবি, লিবার্টি মেডেল সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একটি সম্মাননা। অতীতেও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, প্রয়াত সিনেটর জন ম্যাককেইন এবং নির্মাতা কেন বার্নসের মতো ব্যক্তিত্ব এ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। সূত্র: সিএনএন