হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এবার ওয়াশিংটন চাইছে, ইরান প্রকাশ্যে ঘোষণা দিক যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে এবং ভবিষ্যতে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে আর গুলি চালানো হবে না। তবে দুই দেশই আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইরান ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের কাছে স্বীকার করেছে যে বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো ছিল ‘ভুল’। তবে তেহরানের দাবি, এই ঘটনার জন্য সরকারের নির্দেশ নয়, বরং একটি ‘উগ্রপন্থি বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী’ দায়ী।
হোয়াইট হাউসের দাবি, গত জুনে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলা সেই সমঝোতার লঙ্ঘন। তাই যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের কাছে প্রকাশ্য বিবৃতি চেয়েছে, যাতে তারা হরমুজ প্রণালিকে নিরাপদ ও উন্মুক্ত ঘোষণা করে এবং ভবিষ্যতে এমন হামলা না করার অঙ্গীকার জানায়। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘এই ঘোষণা না এলে ফল ভালো হবে না।’
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত ইরান মেনে চলেছে, বরং যুক্তরাষ্ট্রই চুক্তি ভঙ্গ করেছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এ বিষয়টি তুলে ধরেন।
এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার শনিবার ওমানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। একই সময়ে আরাঘচিও ওমানে অবস্থান করছেন। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি কাতারের একটি প্রতিনিধিদলও ইরানে গিয়ে উত্তেজনা কমানো এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করেছে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান আবারও আলোচনায় ফিরতে চেয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে নিজের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, এমন কোনো হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর জবাব দেবে।
অন্যদিকে, সদ্য নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি এক বার্তায় বলেছেন, তার বাবার হত্যার প্রতিশোধ ‘অবশ্যম্ভাবী’। যদিও শুক্রবার নতুন করে কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি, তবু হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।