যুদ্ধবিরতিতে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সময়কে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগিয়ে সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। 

দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ বলছে, আলোচনা আবারও ব্যর্থ হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার জন্য প্রস্তুত এবং এ সময়ে তারা নিজেদের সামরিক শক্তি পুনর্গঠন ও অভিযোজন সম্পন্ন করেছে।

ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিয়েছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি সমঝোতা শিগগিরই হতে পারে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের কাছে একটি চুক্তি অথবা ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’-এর দাবি জানিয়েছেন।

তবে ইরান বলছে, ওমান ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা চললেও সামরিক শক্তি বৃদ্ধির কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আক্রমিনিয়া রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত (বর্তমানে স্থগিত) সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) সুযোগ এবং যুদ্ধবিরতির প্রতিটি মুহূর্ত তারা সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগিয়েছেন।

তিনি জানান, বিদ্যমান সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা, নতুন সরঞ্জাম আমদানি, ক্ষতিগ্রস্ত অস্ত্রব্যবস্থা মেরামত ও পুনরুদ্ধার এবং নতুন অস্ত্রব্যবস্থা তৈরির কাজ চলেছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আক্রমিনিয়া আরও জানান, নতুন প্রজন্মের ড্রোন যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে এবং পরে এসব ড্রোনের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করা হবে।

গত মাসে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ এবনে রেজা বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন ‘একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি’। যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় ড্রোন উৎপাদন তিন গুণে পৌঁছেছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে এ বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যান দেননি।

তিনি বলেন, শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের নিহত হওয়ার পরও সশস্ত্র বাহিনী তাদের ঐক্য হারায়নি; বরং দ্রুত সিদ্ধান্ত, কৌশলগত দক্ষতা এবং নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে একাধিকবার বিস্মিত করেছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)ও একই ধরনের দাবি করেছে। সংস্থাটির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি বলেন, যুদ্ধবিরতির সময় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বেড়েছে এবং যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতাও উন্নত হয়েছে। তবে আইআরজিসি তাদের অস্ত্রের মজুত, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর জুন মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় ইরান এখনও প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪০ শতাংশ ড্রোনের মজুত ধরে রেখেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ সময় অসম যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে।

এদিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের মানবচালিত ও ড্রোন বিমান ইরানের আকাশসীমায় হাজার হাজার অভিযান পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে কিছু বিমান শনাক্ত বা ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান।

যদিও ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়েছে, তবুও আইআরজিসি ও সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-৯, এমকিউ-১ নজরদারি ও যুদ্ধ ড্রোন, ‘লুকাস’ ড্রোন এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।

আইআরজিসির সাবেক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার হোসেইন কানানি মোগাদ্দাম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাজারো হামলাও ইরানের সামরিক সক্ষমতা ভেঙে দিতে পারেনি।

তার ভাষায়, “আমরা দেশীয় উৎপাদন ও মানোন্নয়ন অব্যাহত রেখেছি। আমাদের আগের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পাল্লা ও ওয়ারহেডের ধ্বংসক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়েছে।”

সূত্র: আলজাজিরা