উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তাঁর "অত্যন্ত চমৎকার সম্পর্কের" কথা উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেন্টাগনকে নির্দেশ দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিধি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে।
সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, এই সামরিক মহড়াগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং উত্তর কোরিয়ার কাছে সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত ও শত্রুভাবাপন্ন বার্তা পাঠায়।
ট্রাম্পের মতে, তিনি হোয়াইট হাউসে থাকা অবস্থায় উত্তর কোরিয়া কোনো হুমকি সৃষ্টি করেনি এবং সর্বদা সম্মান প্রদর্শন করে এসেছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, উত্তর কোরিয়ার কিম জং উনের সাথে আমার দারুণ সম্পর্কের কারণে, দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে যৌথ মহড়ায় অংশ নেওয়ার যে চুক্তি দীর্ঘ সময় আগে যুক্তরাষ্ট্র করেছিল, তাতে আমি মোটেও সন্তুষ্ট নই।
ইরান প্রসঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, আমি সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে তাঁরা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার ক্ষেত্রে আমাদের সাথে যোগ দেবেন কি না। তারা উত্তর দিয়েছে, ‘না, ধন্যবাদ!’
ট্রাম্প জানান, এই মুহূর্তে নির্ধারিত মহড়া সম্পূর্ণ বাতিল করা সম্ভব নয়। তাই প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন মহড়ার পরিধি ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে’।
তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সামরিক মহড়া অব্যাহত থাকবে।
আগস্ট ১৭ থেকে ২৭ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১১ দিনব্যাপী এই বার্ষিক ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ১৮ হাজার সেনা অংশ নিচ্ছে। এটি দুই দেশের নিয়মিত একটি সামরিক আয়োজন, যা পরমাণু অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করতে প্রস্তুতি হিসেবে পরিচালনা করা হয়।
উল্লেখ্য, পিয়ংইয়ং সব সময়ই এই ধরনের মহড়াকে তাদের দেশে হামলার মহড়া হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। গত সপ্তাহেও উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে সতর্ক করে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক সহযোগিতা এখন একটি পারমাণবিক জোটে রূপ নিচ্ছে এবং নতুন এই হুমকির বিপরীতে পিয়ংইয়ংও নতুন মাত্রার প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতার সাথে তিনবার সাক্ষাৎ করেছিলেন। ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুর সম্মেলনের পরও তিনি এই সামরিক মহড়াকে ‘ব্যয়বহুল’ এবং ‘উসকানিমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।
সূত্র: আল-জাজিরা