দক্ষিণ ক্যারোলিনায় সিনেট লড়াইয়ে ট্রাম্পের পরীক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান দলের সিনেট নির্বাচনের রানঅফে মুখোমুখি হয়েছেন ডার্লিন গ্রাহাম ও রালফ নরম্যান। নির্বাচনটি শুধু দুজন প্রার্থীর লড়াই নয়, বরং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (ম্যাগা) রাজনীতি এবং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ অবস্থানের মধ্যকার টানাপোড়েনেরও পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতিকে ঘিরে রিপাবলিকান ভোটারদের অবস্থান এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাধারণত বিদেশনীতি রিপাবলিকান প্রাইমারি ভোটারদের ভোট দেওয়ার প্রধান কারণ নয়। তবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিতর্ক এবং সাম্প্রতিক এক নির্বাচনী বিতর্কে গ্রাহামের মন্তব্য এবারের লড়াইয়ের চিত্র বদলে দিয়েছে।

এক বিতর্কে জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে গ্রাহাম বলেছিলেন, তিনি এ বিষয়ে খুব বেশি জানেন না। তাঁর ওই মন্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এর পরই আগে প্রায় একতরফা বলে মনে হওয়া রানঅফে নরম্যানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোরালো হয়ে ওঠে।১১ আগস্ট অনুষ্ঠিত প্রথম দফার প্রাইমারিতে গ্রাহাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে নরম্যানের চেয়ে ৮ পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন। তৃতীয় অবস্থানে থাকা রাসেল ফ্রাই পেয়েছিলেন প্রায় ২০ শতাংশ ভোট। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এই প্রার্থী পরে ট্রাম্প-সমর্থিত গ্রাহামকে সমর্থন দেন।

লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর তাঁর আসন পূরণে ডার্লিন গ্রাহামকে অন্তর্বর্তী সিনেটর হিসেবে নিয়োগ দেন দক্ষিণ ক্যারোলিনার গভর্নর হেনরি ম্যাকমাস্টার। পূর্ণ ছয় বছরের মেয়াদে নির্বাচনের জন্য গ্রাহামের প্রার্থিতার পেছনে ট্রাম্পের সমর্থনও ছিল।

অন্যদিকে রালফ নরম্যানকে সরাসরি ম্যাগা শিবিরের প্রার্থী হিসেবে দেখা হয় না। তিনি দক্ষিণ ক্যারোলিনার পুরোনো রক্ষণশীল ও সরকারবিরোধী রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠ। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি নিকি হ্যালিকে সমর্থন করেছিলেন। এবার হ্যালিও নরম্যানকে সমর্থন দিয়েছেন।প্রথম দফার নির্বাচনে সাবেক গভর্নর মার্ক স্যানফোর্ডও উল্লেখযোগ্য ভোট পান। তিনি ট্রাম্পের ঘোর সমর্থক নন এবং নরম্যানকে সমর্থন করছেন। আরেক প্রার্থী মার্ক লিঞ্চও গ্রাহামের পরিবর্তে নরম্যানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

ফলে প্রথম দফার ফলাফলকে মোটামুটি দুই শিবিরের শক্তির মাপকাঠি হিসেবে দেখা হচ্ছে। গ্রাহাম ও ফ্রাইকে নিয়ে ম্যাগা শিবির পেয়েছিল ৫২ শতাংশ ভোট। নরম্যান, স্যানফোর্ড ও লিঞ্চের সমন্বয়ে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ ও ঐতিহ্যবাহী রক্ষণশীল শিবির পেয়েছিল ৪৬ শতাংশ। বাকি ২ শতাংশ ভোট যায় অন্য প্রার্থীদের ঘরে।

ইরান যুদ্ধই এবারের রানঅফে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি। ম্যাগা অবস্থানের মূল কথা হলো, ট্রাম্পকে সমর্থন করে তাঁর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া। বিপরীতে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ শিবিরের অনেকে মনে করেন, ইরানে যুদ্ধ ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং শুরু থেকেই এটি ভুল সিদ্ধান্ত।

আজকের ভোটে সেই মতপার্থক্যেরই প্রতিফলন ঘটতে পারে। গ্রাহামের বিতর্কিত মন্তব্য নরম্যানকে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ভোট এনে দিতে পারে কি না, সেটিই এখন নির্বাচনের বড় প্রশ্ন। পাশাপাশি বিদেশনীতি নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে সন্দিহান রিপাবলিকান ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কোন শিবিরের দিকে ঝুঁকছেন, তারও একটি ইঙ্গিত মিলতে পারে এই রানঅফে।