ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র যা বলছে

এক মাসেরও বেশি সময় পর আবারও সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। রোববার ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর পাল্টা জবাব দিয়েছে তেহরান। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের পাল্টা হামলায় জর্ডানের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে রোববার মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি রকেট উৎক্ষেপণকারী স্থাপনায় হামলা চালায়। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ওই এলাকায় ইরানি সেনাদের হরমুজ প্রণালিতে মাইনসহ রকেট নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিতে দেখা গিয়েছিল।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, লারাক দ্বীপে দুটি ইরানি রকেট উৎক্ষেপণকারীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, দ্বীপটির কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

এর কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তারা জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়।

তবে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংস করেছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পেত্রাকে দেওয়া সামরিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বেসামরিক নাগরিক বা সম্পদের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করার আগেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়।

হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি অবস্থিত লারাক দ্বীপটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই জলপথ আঞ্চলিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের রুট থেকে সমুদ্র মাইন সরানোর কাজ শেষ করেছে মার্কিন বাহিনী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে সতর্ক করে বলেছিলেন, নতুন করে কোনো জাহাজ বা নৌযান মাইন স্থাপনের চেষ্টা করলে সেটি তাৎক্ষণিকভাবে এবং ধারাবাহিকভাবে ধ্বংস করা হবে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে মার্কিন বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে।

এর আগে রোববার আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘মার্কিন-জায়নবাদী শত্রু’ হিসেবে উল্লেখ করে লারাক দ্বীপে হামলার অভিযোগ তোলে। তাদের দাবি, ওই হামলায় ইরানি সামরিক সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। এর পরই প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল ইরানের এই শক্তিশালী সামরিক বাহিনী।

এক মাসেরও বেশি সময়ের তুলনামূলক বিরতির পর এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আবারও বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে সামরিক তৎপরতা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।