সিএনএনের প্রতিবেদন

ট্রলযুদ্ধেও হেরে চলেছে ট্রাম্প প্রশাসন

কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ যখন নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে, তখন দেশটির বিরুদ্ধে কটাক্ষ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তবে এই প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শক্তিশালী করার বদলে উল্টো সমালোচনার মুখে পড়ছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। কানাডিয়ানদের পাল্টা ট্রলে উল্টো লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সমালোচকরা বলছেন, 'ট্রলযুদ্ধেও' হেরে চলেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
 
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা পুনরায় শুরু করতে তার দেশ প্রস্তুত। তবে ওয়াশিংটনকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও কটাক্ষের পরিবর্তে আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা যখন ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য ও নানা ধরনের ছবি নিয়ে ব্যস্ত না থেকে আলোচনাকে গুরুত্ব দেবেন এবং বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেবেন, তখনই দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

গত সপ্তাহে মার্কিন অনড় অবস্থানের অভিযোগ তুলে বাণিজ্য আলোচনা থেকে সরে গিয়েছিলেন কার্নি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বহাল রেখেছে। এর জবাবে কানাডাও সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে কানাডাকে নিয়ে বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য ও প্রচারণাও চলছে। হোয়াইট হাউসের এক পোস্টে একটি ঈগলকে কানাডার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হাঁসকে চেপে ধরতে দেখা যায়। তবে কানাডীয়রা পাল্টা এমন ছবি ছড়িয়ে দেয়, যেখানে হাঁসটিকেই লড়াইয়ে এগিয়ে থাকতে দেখা যায়।

এদিকে ট্রাম্প অন্টারিও হ্রদের নাম পরিবর্তন করে আমেরিকা হ্রদ রাখার উদ্যোগ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্রে নতুন নামটি দেখানোর জন্য অ্যাপলের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন তিনি। তবে কানাডায় হ্রদটির পুরোনো নামই বহাল রয়েছে। এর মধ্যে নাম পরিবর্তনে অস্বীকৃতি জানানো ম্যাপকোয়েস্টের জনপ্রিয়তাও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কানাডার সামরিক সক্ষমতা নিয়েও মার্কিন কর্মকর্তাদের কটাক্ষের মুখে পড়েছে দেশটি। পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি এমনকি কানাডাকে এমন একটি দেশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার কোনো সামরিক বাহিনী নেই। তবে কানাডা বিভিন্ন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সঙ্গে লড়াই করেছে এবং প্রাণও দিয়েছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও কানাডাকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তো কানাডার সঙ্গে যুদ্ধে নেই। এমনকি কানাডার হাতে এডমন্টন মলের দুটি সাবমেরিন ছাড়া আর কী আছে, এমন কটাক্ষও করেন তিনি।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কানাডার সামরিক পোশাক পরা দুই নারীকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করেন। তবে ছবিতে থাকা অন্তত একজন নারী তরুণ ক্যাডেট কর্মসূচির সদস্য হতে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে একজন উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তার পক্ষ থেকে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে আগ্রহী এক তরুণকে এভাবে উপহাস করা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কানাডাকে নিয়ে এসব কটাক্ষের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সামনে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। ইরান যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি, মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্বসংকট দেখা দিয়েছে এবং অর্থনীতিতেও নানা চাপ রয়েছে। ফলে কানাডাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে সময় দেওয়ার পরিবর্তে এসব সংকট মোকাবিলায় মনোযোগ দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।

অন্যদিকে বাণিজ্যযুদ্ধে মার্কিন জনমতও প্রশাসনের পক্ষে পুরোপুরি নেই। সাম্প্রতিক রয়টার্স ও ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক অন্টারিও হ্রদের নাম পরিবর্তন এবং কানাডার ওপর নতুন শুল্ক আরোপ, দুটিরই বিরোধিতা করছেন।

ফলে কানাডাকে চাপে রাখতে ট্রাম্প প্রশাসনের কটাক্ষনির্ভর প্রচারণা এখন পর্যন্ত প্রত্যাশিত রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিতে পারেনি বলেই বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। সূত্র: সিএনএন