যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় ইহদি ধর্মালম্বীদের উপাসনালয় সিনাগগসহ বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের প্রাণঘাতী হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে ২১ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। ফেডারেল তদন্তকারীদের অভিযোগ, আইএসের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বাটলার কাউন্টির বাসিন্দা জোনাথন হান্টার ক্রেমার।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ক্র্যানবেরি টাউনশিপের একটি হোটেলের বাইরে ক্রেমারকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, গ্রেপ্তারের সময় তার কাছে একটি রাইফেল, কয়েক ডজন ছুরি এবং প্রায় ২০০ রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পিটসবার্গের বৃহত্তর ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
গ্রেটার পিটসবার্গের ইহুদি ফেডারেশনের কমিউনিটি নিরাপত্তা পরিচালক শন ব্রোকোস সিবিএস পিটসবার্গকে বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্কতা এবং উদ্বিগ্ন নাগরিকদের দেওয়া তথ্য হামলার পরিকল্পনা ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তার ভাষ্য, ক্রেমার কোথায় হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে স্থানীয় নাগরিকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্তকারীরা পরিকল্পনাটি শনাক্ত করতে সক্ষম হন বলে তিনি জানান।
ফেডারেল আদালতের নথি অনুযায়ী, ক্রেমারের বিরুদ্ধে আইএসের প্রতি আনুগত্যের অভিযোগ নতুন নয়। ২০২৩ সালে তিনি যখন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন, তখন তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি ভিডিও উদ্ধার করা হয়। ওই ভিডিওতে তাকে আইএসের তৎকালীন নেতা আবু বকর আল-বাগদাদির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে দেখা যায় বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের মতে, ২০২৩ সালের এপ্রিলেই ক্রেমার এফবিআইয়ের নজরে আসেন। তখন তার বয়স ছিল ১৬ বা ১৭ বছর। অনলাইনে হুমকিমূলক বক্তব্য প্রকাশ এবং বিস্ফোরক তৈরির নির্দেশনা শেয়ার করার অভিযোগে তার বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়। সে সময় ‘নিকোলাস ক্রুজ’ নামের একটি ব্যবহারকারীনাম ব্যবহার করতেন বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে তদন্তকারীরা তাকে বড় ধরনের প্রাণঘাতী হামলার পরিকল্পনা এবং শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপকরণ রাখার ঘটনায় দায়ী করেন। এরপর তিনি অয়েল সিটির একটি কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে ছিলেন এবং মার্চে সেখান থেকে ছাড়া পান বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বাড়িতে ফেরার পর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য নিয়ে ক্রেমারের যোগাযোগের তথ্যও তদন্তকারীরা পেয়েছেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব আলোচনায় নৈশক্লাব, প্রেক্ষাগৃহ, কনসার্ট, আবাসিক ভবন, হোটেল, বিক্ষোভ এবং কম নিরাপত্তার স্কুলসহ বিভিন্ন স্থানের কথা উঠে আসে বলে তদন্তকারীদের দাবি। সিনাগগে খাবারে বিষ মেশানোর মতো হামলার পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রেটার পিটসবার্গের ইহুদি ফেডারেশন শুক্রবার প্রকাশিত এক নিরাপত্তা বার্তায় জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ফেডারেল কৌঁসুলিদের সঙ্গে তারা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে। উদ্বেগজনক কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলেও সংগঠনটি জানিয়েছে। ক্রেমার গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট