নিউইয়র্কে আরাঘচির নিরাপত্তায় মার্কিন ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিস

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে থাকা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির জন্য মার্কিন সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চেয়েছে তেহরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরাঘচির সফরের সময় তাকে সরকারি নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে অনুরোধ করা হয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরাঘচির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হুমকির বিষয়টি পর্যালোচনা করার পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তার নিরাপত্তায় ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিসের (DSS) সদস্যদের মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত এবং দুই দেশের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই আরাঘচি নিউইয়র্ক সফর করছেন। তিনি সোমবার নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন এবং জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যেই ওয়াশিংটন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি এবং প্রয়োজনীয় কর্মকর্তাদের নিউইয়র্কে প্রবেশের ভিসা অনুমোদন করেছে। তবে এবারের ইরানি প্রতিনিধি দলকে তুলনামূলক ছোট রাখা হয়েছে এবং তাদের চলাচলের ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে।

আরাঘচি নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে তারা আলোচনা করেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা IRNA জানিয়েছে।

নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আরাঘচি বলেন, জাতিসংঘের মঞ্চকে ইরানের অবস্থান এবং দেশটির জনগণের স্বার্থ তুলে ধরার জন্য ব্যবহার করতে চায় তেহরান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সফরের কূটনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

আরাঘচির নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন সরকারের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, দুই দেশের প্রতিনিধিরাই জাতিসংঘের অধিবেশনে উপস্থিত হয়েছেন।

নিউইয়র্কে আরাঘচির উপস্থিতিকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের বিষয়টি তাই কেবল একজন বিদেশি মন্ত্রীর নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ নয়; বরং দুই দেশের চলমান সংঘাতের মধ্যে কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

তবে আরাঘচিকে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত বক্তব্য Axios-এর প্রতিবেদনে উদ্ধৃত করা হয়নি। ফলে হুমকির ধরন বা নির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা-ঝুঁকির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলার কথা। এই অধিবেশনে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।