'ইরানিদের অধিকার তুলে ধরাই নিউইয়র্ক সফরের মূল লক্ষ্য'

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম

ইরানি জনগণের ন্যায্যতা, অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করাই নিউইয়র্ক সফরের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অবস্থান তুলে ধরাই এবারের সফরের মূল উদ্দেশ্য।

সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কথিত আগ্রাসনের পরও পরিস্থিতি এমন অবস্থায় রয়েছে, যা বাস্তবে যুদ্ধের পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিশ্বের বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইরানি জনগণের অধিকার ও স্বার্থ তুলে ধরার গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরাঘচির ভাষ্য, জাতিসংঘ বিশ্বের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চ। শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ঘোষিত লক্ষ্য পূরণে সংস্থাটি কতটা সফল হয়েছে, সেটি আলাদা বিষয়। তবে বিভিন্ন দেশের জন্য নিজেদের অবস্থান বিশ্বের সামনে তুলে ধরার একটি মঞ্চ হিসেবে জাতিসংঘ এখনও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, প্রতি বছরই এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান এবং ইরানি জনগণের অধিকার তুলে ধরা হয়। এবারও সেই একই মঞ্চে ইরানের জনগণের ওপর নিপীড়নের বিষয়টি বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হবে।

একই সঙ্গে যুদ্ধে নিহতদের স্মরণ করার কথাও জানান আরাঘচি। বিশেষ করে মিনাবের স্কুলে নিহতদের এবং ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতাকে স্মরণ করা হবে বলে জানান তিনি।

আরাঘচি বলেন, গত বছর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একই মঞ্চে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় সংঘটিত কথিত নৃশংসতার বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। তার মতে, চলতি বছর পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পেজেশকিয়ান ভাষণ দেবেন। পাশাপাশি ইরানি ও বিদেশি বুদ্ধিজীবী, গণমাধ্যমকর্মী ও চিন্তাবিদদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করবেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

আরাঘচি জানান, তিনিও নিউইয়র্ক সফরের সময় বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পর্যালোচনার পাশাপাশি ইরানের অবস্থান তুলে ধরা এবং দেশের স্বার্থ রক্ষার সুযোগ থাকবে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া পরিবেশবিষয়ক সম্মেলনসহ বিভিন্ন পার্শ্ববৈঠকে ইরানের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা, জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠনের বৈঠকেও ইরান অংশ নেবে বলে জানান আরাঘচি।

তিনি বলেন, নিউইয়র্কে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ইরানের সঙ্গে অন্য দেশগুলোর সম্পর্ক পর্যালোচনা ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। চার থেকে পাঁচ দিনের ব্যস্ত কর্মসূচির পুরো সময়টিই ইরান কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে চায়। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি

এএস
আরও পড়ুন