ইরান নিয়ে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা, সৌদি ও কাতারে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে সৌদি আরব ও কাতারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত দুটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও একজন আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহে একটি প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা রক্ষায় এবং আরেকটি কাতারের একটি প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনার নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে।

অ্যাক্সিওসের সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য নতুন মার্কিন সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে সৌদি আরব ও কাতারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষায় ওয়াশিংটন পাশে থাকবে—এই বার্তা দিতেই নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানো হয়েছে।

অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার সম্ভাবনা বিবেচনা করার সময় সৌদি ও কাতারের নেতারা তাকে এমন পদক্ষেপ না নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে তেহরান পাল্টা সৌদি ও কাতারের তেল-গ্যাস অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ওই উদ্বেগ ট্রাম্প প্রশাসনের সে সময়কার সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। পরবর্তী সময়ে ওয়াশিংটন সামরিক হামলার পরিবর্তে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পথ বেছে নেয় বলে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে।

তবে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আবারও বাড়ানো হচ্ছে। অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও সেনাসদস্য ওই অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। এর মধ্যে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ রয়েছে।

অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপে তিনটি উভচর যুদ্ধজাহাজ রয়েছে এবং এতে ১৩তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের কয়েক হাজার মেরিন রয়েছে। গ্রুপটি চলতি সপ্তাহের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি বাড়লেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কাতারসহ কয়েকটি দেশ দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতি হয়নি বলে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে।

রয়টার্সের ১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে মার্কিন হামলা শুরু হলে আগের তুলনায় আরও ব্যাপক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব আলোচনা করছে। তবে নতুন কোনো হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর খবর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ১ অক্টোবর মার্কিন সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের খবরের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২.৩১ ডলারে পৌঁছায়।

ফলে সৌদি আরব ও কাতারের জ্বালানি স্থাপনার কাছে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট মোতায়েন শুধু সামরিক প্রতিরক্ষার বিষয় নয়; সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের ক্ষেত্রে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোকে কীভাবে সুরক্ষিত রাখা হবে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।