ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ ও সম্পদ ব্যবহার বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তাদের বিদেশি জীবনযাপন নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, এখন আর লন্ডনে প্লাস্টিক সার্জন দেখাতে যাওয়া, প্যারিসে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করা কিংবা জেনেভায় রাখা অর্থ ব্যবহার করা সহজ হবে না।
বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের চাপ প্রয়োগের অভিযান এখন আরও বিস্তৃত হয়ে দেশটিকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাঁর ভাষায়, আগে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের অভিযান ছিল, এখন চলছে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করার অভিযান, এবং তা কাজ করছে।
বেসেন্টের দাবি, এই অভিযানের আওতায় শুধু আর্থিক নিষেধাজ্ঞাই নয়, ইরানি জাহাজ চলাচলে মার্কিন অবরোধ এবং আকাশ ও স্থলপথে যোগাযোগ সীমিত করার উদ্যোগও রয়েছে। তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান ওয়াশিংটনকে সহযোগিতা করছে। পাশাপাশি পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে কাজ করে ইরানের সব স্থলপথ বন্ধ করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চলতি সপ্তাহেই জব্দ করা হতে পারে বলেও দাবি করেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব সম্পদের অবস্থান সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র জানে এবং ইরানকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। তবে কথিত ক্রিপ্টোসম্পদের মালিকানা, অবস্থান কিংবা সেগুলো জব্দ করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
বেসেন্ট আরও পূর্বাভাস দেন, অবরোধের ফলে একসময় বিক্রির জন্য সমুদ্রে ইরানের কোনো তেলই অবশিষ্ট থাকবে না। তবে ইরানের বিরুদ্ধে এসব পদক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়ে তাঁর দাবির পক্ষে সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল